ব্র্যান্ড পজিশনিং এর ক্ষেত্রে ডিজিটাল মার্কেটিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ

ব্র্যান্ড পজিশনিং এর ক্ষেত্রে ডিজিটাল মার্কেটিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ
Share This Post

বর্তমান বাজারে টিকে থাকতে হলে শুধু ভালো প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিশ্চিত করলেই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সঠিক ব্র্যান্ড পজিশনিং। আর ব্র্যান্ড পজিশনিং এ ডিজিটাল মার্কেটিং এর ব্যবহার হয়ে উঠেছে সবচেয়ে কার্যকর। সহজ কথায়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে সঠিক সময়ে, সঠিক গ্রাহকের কাছে ব্র্যান্ডের Uniqueness তুলে ধরা যায়। সোশ্যাল মিডিয়া, কনটেন্ট মার্কেটিং, ই-মেইল ক্যাম্পেইন কিংবা এসইও-সবকিছুই ব্র্যান্ডকে প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করে গ্রাহকের মনে স্থায়ী জায়গা করে দিতে পারে। এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব, কীভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং ব্র্যান্ড পজিশনিংকে শক্তিশালী করে এবং ব্যবসার সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ব্র্যান্ড পজিশনিং কী?

ব্র্যান্ড পজিশনিং হল এমন একটি কৌশল, যা ব্র্যান্ডগুলোকে সমসাময়িক বাজারে নিজেদের আলাদা করে তুলতে সাহায্য করে। 

ব্র্যান্ড পজিশনিং শুরু হয় একটি পজিশনিং স্টেটমেন্ট দিয়ে। এটি মূলত কোম্পানির ভেতরে ব্যবহার করা হয়, যাতে তারা টার্গেট অডিয়েন্স ঠিক করতে পারে এবং নিজেদের ব্র্যান্ড পরিচয় গড়ে তুলতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, গ্রাহকদের বোঝানো যে তারা কী অফার করছে এবং কেন তারা এটি দিতে সবচেয়ে উপযুক্ত।

ব্র্যান্ড পজিশনিং কী?

যেমন ধরুন: বাংলাদেশের ফ্যাশন ও হস্তশিল্পের বাজারে আড়ং বেশ স্বনামধন্য একটি ব্র্যান্ড, যা নিজেকে শুধু একটি পোশাক বা হোম ডেকর ব্র্যান্ড হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাদের ব্র্যান্ড পজিশনিং মূলত গ্রাহকের কাছে দেশীয় শিল্পের সাথে আধুনিকতার ছোঁয়া তুলে ধরা।

ব্র্যান্ড পজিশনিং এর স্ট্রাটেজি:  

আপনার ব্র্যান্ডের আসল শক্তি কোথায়? কেন মানুষ আপনার ব্র্যান্ডকে বেছে নেবে? মূলত ব্র্যান্ড পজিশনিং ঠিক এখান থেকেই শুরু হয়!

সঠিক পজিশনিং মানে গ্রাহকের মনে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেওয়া! 

  • Who (কাকে লক্ষ্য করবেন?) – আপনার গ্রাহক কারা?
  • What (কোন সমস্যা সমাধান করছেন?) – আপনার পণ্য বা সেবা কোন চাহিদা পূরণ করছে?
  • Why (কেন মানুষ আপনাকে বিশ্বাস করবে?) – প্রতিযোগীদের তুলনায় আপনি কীভাবে সেরা?

ধাপ ১: আপনার আসল গ্রাহক কে? (WHO)

এটাই আপনার মার্কেট সেগমেন্টেশন ধাপ। ভাবুন, সবাই কি আপনার ব্র্যান্ডের জন্য উপযুক্ত গ্রাহক? না! আপনাকে সেই শ্রেণির মানুষকে খুঁজে বের করতে হবে, যারা সত্যিই আপনার পণ্য বা সেবা কিনতে আগ্রহী।একবার আপনি এই গ্রাহকদের চিহ্নিত করে ফেললে, তাদের চাহিদার ভিত্তিতে আপনার ব্র্যান্ডের পণ্য বা সেবা নিশ্চিত করতে পারবেন।

ব্র্যান্ড পজিশনিং এর স্ট্রাটেজি

ধাপ ২: আপনার ব্র্যান্ড কী সমস্যার সমাধান দিচ্ছে? (WHAT)

আপনার পণ্য কি শুধু একটা প্রোডাক্ট, নাকি আসলে কোনো সমস্যার সমাধান দিচ্ছে?

  • আপনার ব্র্যান্ডের মূল উদ্দেশ্য কী?
  • আপনার পণ্য বা সেবা কীভাবে মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনবে?

ধরুন, আপনি পরিবেশবান্ধব পোশাক বিক্রি করছেন। এর মানে এটি শুধু ফ্যাশন ব্র্যান্ড নয়, বরং বর্তমান প্রজন্মের কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করে।

ধাপ ৩: মানুষ কেন আপনাকে বিশ্বাস করবে? (WHY)

এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ! আপনার ব্র্যান্ড কেন সেরা? গুণগত মান? সাশ্রয়ী মূল্য? ব্যতিক্রমী গ্রাহক সেবা? এক্সক্লুসিভ ডিজাইন?-আপনাকে এমন কিছু বলার মতো থাকতে হবে, যা গ্রাহকরা শুনে “হ্যাঁ, এটাই আমার দরকার!” বলে উঠবে।

ব্র্যান্ড পজিশনিং এর কৌশল শুরু হয় অভ্যন্তরীণভাবে। এই Who,What & Why অনুধাবন করে স্টেকহোল্ডার, মার্কেটিং ও এইচআর টিমকে জানাতে হবে তবেই প্রত্যেক ডিপার্টমেন্ট ব্র্যান্ডের কোর ভ্যালু বজায় রাখবে।

ব্র্যান্ডিং এ ডিজিটাল মার্কেটিং গুরুত্ব:

আপনি যখন ব্র্যান্ডিংয়ের কথা ভাবেন, তখন এটা আসলে একটা বহুমুখী প্রক্রিয়া, যেটি অনলাইন এবং অফলাইন উভয় জায়গায় করতে হয়। আপনার ব্র্যান্ডের লোগো ডিজাইন থেকে অফিস ডিজাইন করা, কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবহার করে আপনার ব্যবসা প্রচার করা-এই সবই ব্র্যান্ডিংয়ের অংশ। তবে, ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি আপনার ব্র্যান্ডিংকে আরও শক্তিশালী করতে পারেন। কীভাবে? চলুন, দেখি কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং আপনার ব্র্যান্ডকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে!

ব্র্যান্ডিং এ ডিজিটাল মার্কেটিং গুরুত্ব

বিশ্বাসযোগ্যতা গড়তে সাহায্য করে:

ডিজিটাল মার্কেটিং আপনাকে আপনার ব্র্যান্ডের প্রতি গ্রাহকদের বিশ্বাস গড়তে সাহায্য করতে পারে। যখন কেউ আপনার ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আসেন এবং আপনার কনটেন্ট পছন্দ করেন, তখন তারা আপনার ব্র্যান্ডের সাথে আরও যুক্ত হতে শুরু করে। সেই সাথে, তারা আপনার ওয়েবসাইটে আবার ভিজিট করতে পারে এমনকি আপনার পণ্য বা সার্ভিস নিতে পারে।

বিশ্বাসযোগ্যতা গড়তে সাহায্য করে

কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে: 

ডিজিটাল মার্কেটিং আপনাকে আপনার টার্গেটেড গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করে। আর এর মাধ্যমে, আপনার ব্র্যান্ডিংও বৃদ্ধি পায়! আপনার ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া, পে-পার-ক্লিক (PPC) বিজ্ঞাপন এবং আরও অনেক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আপনাকে সঠিক মানুষের কাছে আপনার ব্র্যান্ডের বার্তা পৌঁছাতে সহায়তা করে।

কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে

যেমন ধরুন, আপনি যদি একটি নতুন বাজারে প্রবেশ করতে চান বা আপনার ব্র্যান্ডকে অনলাইনে প্রচার করতে চান, ডিজিটাল মার্কেটিং আপনাকে একাধিক উপায় দিয়ে আপনার শ্রোতার সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করবে।

কনটেন্ট মার্কেটিংর মাধ্যমে গ্রাহক এঙ্গেজমেন্ট বাড়াতে: 

কনটেন্ট মার্কেটিং দিয়ে আপনি একদম সহজেই একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারেন এবং গ্রাহকদের সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন। এটা অনেকটা এমন, যেন আপনার ব্র্যান্ডের গল্পগুলো গ্রাহকদের মনে একদম স্থায়ী হয়ে যায়! আপনি যদি একটি সফটওয়্যার বিক্রি করেন, তাহলে আপনি সেই সফটওয়্যার ব্যবহার বা এর সুবিধাগুলির উপর সহায়ক কনটেন্ট শেয়ার করতে পারেন।

কনটেন্ট মার্কেটিংর মাধ্যমে গ্রাহক এঙ্গেজমেন্ট বাড়াতে

কীভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং ব্র্যান্ড পজিশনিংয়ে সহায়তা করতে পারে?

ডিজিটাল মার্কেটিং শুধু আপনার ব্র্যান্ডকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সাহায্য করে না, বরং এটি আপনার ব্র্যান্ড পজিশনিংকেও শক্তিশালী করতে গেম চেঞ্জার এর মতো ভূমিকা রাখে! এটা কেবল ফেসবুক পোস্ট বা ইনস্টাগ্রাম স্টোরি নয়-ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি তৈরি করতে পারেন এমন ইন্টারঅ্যাকটিভ কনটেন্ট যা আপনার গ্রাহকদের মনে চিরস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

যেমন ধরুন: কোকা-কোলা, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে একটি। এটি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের শক্তি বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে। কোকা-কোলার সফলতার ইতিহাস একটিই: তারা নতুন ও কার্যকরী কৌশলে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছেছে এবং তাদের ইমোশনে জায়গা করেছে।

কীভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং ব্র্যান্ড পজিশনিংয়ে সহায়তা করতে পারে

কোকা-কোলার ডিজিটাল মার্কেটিং এর কৌশলটি হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে আকর্ষণীয় কনটেন্ট শেয়ার করা এবং ইউজার-জেনারেটেড কনটেন্ট ব্যবহার করা ছিল। উদাহরণস্বরূপ, তাদের #ShareaCoke ক্যাম্পেইনটি ছিল একেবারে আছড়ে পড়া সাফল্য। এতে, মানুষ তাদের কোকের বোতল নিয়ে ছবি এবং ব্যক্তিগত বার্তা শেয়ার করতে উৎসাহিত হয়েছিল। এই ক্যাম্পেইনটি লাখো মানুষকে অনলাইন ইন্টারঅ্যাকশনে নিয়ে এসেছে এবং বিক্রয় বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্রাহকদের মনেও কোকা-কোলার ব্র্যান্ড পজিশন শক্ত করেছে।

অবশেষে, কোকা-কোলার ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে বিনিয়োগ এখন ফল দিচ্ছে। তারা এখন অনেক বেশি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম এবং বাকি সফট ড্রিংকসের সাথে প্রতিযোগিতা করতে সেরা অবস্থানে রয়েছে।

শেষ কথা:

ডিজিটাল মার্কেটিং ব্র্যান্ড পজিশনিংয়ের ক্ষেত্রে অপরিহার্য একটি উপাদান। এটি আপনার ব্র্যান্ডকে গ্রাহকদের সামনে তুলে ধরতে, বিশ্বাস তৈরি করতে এবং কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করে। সোশ্যাল মিডিয়া, ওয়েবসাইট, কনটেন্ট মার্কেটিংসহ বিভিন্ন ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করে আপনি আপনার ব্র্যান্ডের সুনাম এবং পজিশনিং আরও শক্তিশালী করতে পারেন। আপনার ব্র্যান্ড যদি গ্রাহকদের মনে বিশেষ জায়গা তৈরি করতে চায়, তাহলে ডিজিটাল মার্কেটিংকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। সঠিক কৌশল এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে আপনি আপনার ব্র্যান্ডের পজিশন আরো দৃঢ় করতে পারবেন।

Don't wait!
Get the expert business advice You need in 2022

It's all include in our newsletter!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More To Explore
ভয়েস সার্চ অপটিমাইজেশন কেন ২০২৫ এ এত গুরুত্বপূর্ণ 
Marketing

ভয়েস সার্চ অপটিমাইজেশন কেন ২০২৫ এ এত গুরুত্বপূর্ণ 

আপনি কি কখনো কোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে Siri, Alexa, বা Google Assistant ব্যবহার করেছেন? তাহলে আপনিও বিশ্বের সেই ২০.৫% মানুষের মধ্যে যারা নিয়মিত ভয়েস সার্চ

প্রোমোশনাল এক্টিভিটিজ বিজনেস গ্রোথে কেমন ভূমিকা রাখে
Marketing

প্রোমোশনাল এক্টিভিটিজ বিজনেস গ্রোথে কেমন ভূমিকা রাখে

বলুন তো, কি দেখে শেষবার আপনি কোনো প্রোডাক্ট কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? হয়তো কোনো ডিসকাউন্ট? ফ্রি ট্রায়াল? অথবা সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো আকর্ষণীয় ক্যাম্পেইন, তাই না? মূলত,