কাস্টমারের সাথে মার্কেটারদের কমিউনিকেশন স্কিল কেমন হওয়া উচিত?

কাস্টমারের সাথে মার্কেটারদের কমিউনিকেশন স্কিল কেমন হওয়া উচিত?
Share This Post

একজন ভালো মার্কেটারের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার কমিউনিকেশন স্কিল । কাস্টমারের মন জয় করতে হলে শুধু পণ্য বা সার্ভিস ভালো হলেই হবে না, তার সাথে কীভাবে কথা বলা হচ্ছে, কেমনভাবে প্রেজেন্ট করা হচ্ছে, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ইফেক্টিভ কমিউনিকেশন না থাকলে আপনার প্রোডাক্ট যত ভালোই হোক না কেন, কাস্টমার সেটি নিতে আগ্রহী হবেন না। তাই মার্কেটারদের অবশ্যই স্মার্ট, পেশাদার এবং গ্রাহক-বান্ধব কমিউনিকেশন স্কিল গড়ে তুলতে হবে।

এখানে আমরা কাস্টমারের সাথে সফলভাবে কমিউনিকেট করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কমিউনিকেশন স্কিল এবং দক্ষতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

১. কাস্টমারদের ভাষা বুঝুন এবং সেই অনুযায়ী কথা বলুন:

কাস্টমারের সাথে কথা বলার সময় তাদের ভাষা বুঝতে হবে। কেউ যদি ফরমাল টোন পছন্দ করে, তাহলে বেশি ক্যাজুয়াল না হওয়াই ভালো। আবার অনেকে ক্যাজুয়াল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পছন্দ করেন।

কাস্টমারদের ভাষা বুঝুন এবং সেই অনুযায়ী কথা বলুন

 কিছু Key টিপস:

  • কাস্টমারের সঙ্গে “আপনি” সম্বোধন করা ভালো, যেন সম্মানবোধ থাকে।
  • টোন হতে হবে পজিটিভ, প্রফেশনাল ও বন্ধুত্বপূর্ণ।
  • কাস্টমারের প্রয়োজন বোঝার জন্য active listening জরুরি।
  • কাস্টমারের কথায় আগ্রহ দেখাতে হবে, যেন সে অনুভব করে যে আপনি সত্যিই সাহায্য করতে চান।

২. Persuasive Communication – কাস্টমারকে কনভিন্স করার কৌশল:

কাস্টমার কেন আপনার প্রোডাক্ট কিনবে, কেন সে আপনার ব্র্যান্ডে ট্রাস্ট করবে – এসব তাকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে বোঝাতে হবে। এর জন্য persuasive কমিউনিকেশন স্কিল  খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

Persuasive Communication – কাস্টমারকে কনভিন্স করার কৌশল

কিছু কৌশল:

  • Problem-Solution Approach – কাস্টমারের সমস্যাটা ধরুন, তারপর দেখান কীভাবে আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সেটার সমাধান করতে পারে।
  • Strong Value Proposition – “আমাদের পণ্য সেরা” বলা যথেষ্ট নয়, বুঝিয়ে বলুন কেন এটি সেরা।
  • Social Proof Use করুন – রিভিউ, টেস্টিমোনিয়াল, অথবা অন্যদের ব্যবহার করে ট্রাস্ট ফ্যাক্টর বাড়ান।
  • Clear Call to Action (CTA) – কাস্টমার কী করবে সেটা স্পষ্ট করে দিন (যেমন: “অর্ডার করুন এখনই!”, “ডেমো দেখুন”, “ফ্রি ট্রায়াল নিন”)।

৩. Active Listening – কাস্টমারের চাহিদা বোঝার ক্ষমতা:

কমিউনিকেশন শুধু কথা বলা নয়, শোনা ও বোঝাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেক মার্কেটার শুধু নিজের প্রোডাক্ট নিয়ে বলে যান, কিন্তু কাস্টমারের আসল চাহিদা শুনতে চান না।

Active Listening – কাস্টমারের চাহিদা বোঝার ক্ষমতা

Active Listening-এর ৩টি মূলনীতি:

  • কাস্টমারের কথা সম্পূর্ণ শুনুন – তার সমস্যার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • ফিডব্যাক দিন – “আমি বুঝতে পারছি, আপনি বলতে চাইছেন যে…” বলে কাস্টমারকে অনুভব করান যে আপনি শুনছেন।
  • ফলো-আপ করুন – কাস্টমারের সমস্যার সমাধান হয়েছে কিনা সেটা জিজ্ঞাসা করা ভালো প্র্যাকটিস।

৪. Emotionally Intelligent Communication – কাস্টমারের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা:

EQ (Emotional Intelligence) থাকা একজন মার্কেটারের জন্য অনেক বড় প্লাস পয়েন্ট। কারণ কাস্টমার শুধু লজিক দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় না, ইমোশনাল কানেকশন থাকলে সে বেশি ট্রাস্ট করে।

Emotionally Intelligent Communication – কাস্টমারের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা

কাস্টমারের ইমোশন বুঝতে হলে:

  • তার সমস্যার প্রতি সহানুভূতিশীল হোন
  • রাগান্বিত বা হতাশ কাস্টমারের সাথে ধৈর্য ধরে কথা বলুন।
  • পার্সোনালাইজড অ্যাপ্রোচ নিন – যেন কাস্টমার মনে করে আপনি শুধু তার জন্যই সাহায্য করছেন।

৫. Non-Verbal Communication – শুধু কথা নয়, শরীরের ভাষাও গুরুত্বপূর্ণ:

শুধু কথা নয়, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন, আই কন্টাক্ট সবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি কাস্টমারের সাথে সামনাসামনি দেখা হয়, তাহলে আপনার শরীরের ভাষা যেন আত্মবিশ্বাসী ও বন্ধুত্বপূর্ণ হয়।

Non-Verbal Communication – শুধু কথা নয়, শরীরের ভাষাও গুরুত্বপূর্ণ

ইফেক্টিভ বডি ল্যাঙ্গুয়েজ-এর কিছু টিপস:

  • আই কন্টাক্ট রাখুন – আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
  • ফ্রেন্ডলি স্মাইল করুন – কাস্টমার বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে।
  • Hand Gesture ব্যবহার করুন – কথাকে বেশি আকর্ষণীয় করতে সাহায্য করে।

৬. ডিজিটাল কমিউনিকেশন– অনলাইন কাস্টমারের সাথে ইন্টারঅ্যাকশন:

বর্তমানে বেশিরভাগ মার্কেটিং ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, লিংকডইন, ই-মেইল মার্কেটিং ইত্যাদির মাধ্যমে হয়ে থাকে। তাই একজন ভালো মার্কেটারের ডিজিটাল কমিউনিকেশন স্কিল থাকা জরুরি।

ডিজিটাল কমিউনিকেশন– অনলাইন কাস্টমারের সাথে ইন্টারঅ্যাকশন

ডিজিটাল কমিউনিকেশন-এর জন্য কিছু নিয়ম:

  • ফাস্ট রেসপন্স দিন – কাস্টমার মেসেজ করলে দ্রুত রিপ্লাই দিন।
  • ক্লিয়ার মেসেজ লিখুন – অপ্রয়োজনীয় তথ্য এড়িয়ে সরাসরি মূল কথায় আসুন।
  • প্রফেশনাল কিন্তু ফ্রেন্ডলি টোন বজায় রাখুন।
  • ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট ইউজ করুন – ইমেজ, ভিডিও বা GIF দিয়ে কমিউনিকেশনকে আকর্ষণীয় করুন।

৭. Conflict Management – কাস্টমারের অসন্তোষ সামলানোর কৌশল:

সব কাস্টমারই খুশি থাকবে না। কেউ না কেউ অভিযোগ করবেই। কিন্তু এই নেগেটিভ ফিডব্যাক যদি ভালোভাবে সামলানো যায়, তাহলে তা পজিটিভ ব্র্যান্ড ইম্প্রেশন তৈরি করতে পারে।

Conflict Management – কাস্টমারের অসন্তোষ সামলানোর কৌশল

কীভাবে হ্যান্ডেল করবেন?

  • শুনুন এবং Calm থাকুন – রেগে গেলে সমস্যা আরও বাড়বে।
  • Apologize করুন (যদি দরকার হয়) – কাস্টমার ভুল বুঝলেও তাকে বোঝানোর সময় নম্র থাকুন।
  • কুইক সল্যুশন দিন – দ্রুত সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করুন।
  • ফলো-আপ করুন – কাস্টমারের অভিযোগ মিটে গেলে পরে জিজ্ঞেস করুন সে সন্তুষ্ট কিনা।

৮. স্টোরিটেলিং – কাস্টমারের সাথে কনভিন্সিং স্টোরি শেয়ার করুন:

মানুষ তথ্য থেকে বেশি গল্প মনে রাখে। তাই কাস্টমারের সাথে স্টোরিটেলিং অ্যাপ্রোচ ব্যবহার করলে সে সহজেই কানেক্ট করতে পারে।

স্টোরিটেলিং – কাস্টমারের সাথে কনভিন্সিং স্টোরি শেয়ার করুন

ইফেক্টিভ স্টোরিটেলিং-এর কিছু কৌশল:

  • কাস্টমারের সমস্যার সাথে মিল রেখে গল্প বলুন।
  • কাস্টমারদের রিয়েল ফিডব্যাক বা সাকসেস স্টোরি শেয়ার করুন।
  • শর্ট এবং এনগেজিং করুন – লম্বা, বিরক্তিকর গল্প না বলে সংক্ষেপে মূল পয়েন্টে আসুন।

৯. সোশ্যাল মিডিয়া এনগেজমেন্ট – কাস্টমারের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন:

বর্তমানে ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, ইউটিউব, টুইটার ইত্যাদির মাধ্যমে কাস্টমারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়।

সোশ্যাল মিডিয়া এনগেজমেন্ট – কাস্টমারের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন

এনগেজমেন্ট বাড়ানোর কিছু উপায়:

  • কমেন্ট ও মেসেজের দ্রুত উত্তর দিন।
  • কাস্টমারের ফিডব্যাক শেয়ার করুন।
  • ইন্টারেক্টিভ কনটেন্ট তৈরি করুন – Poll, Quiz, Live Video, Q&A Session ইত্যাদি করুন।

১০. কন্সিস্টেন্সি এবং প্রফেশনালিজম বজায় রাখুন:

একজন সফল মার্কেটার সবসময় কন্সিস্টেন্ট এবং প্রফেশনাল থাকেন এবং ভালো কমিউনিকেশন স্কিল রাখেন। তিনি জানেন কীভাবে কাস্টমারের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়।

কন্সিস্টেন্সি এবং প্রফেশনালিজম বজায় রাখুন

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

  • কখনোই মিথ্যা বলবেন না।
  • একজন কাস্টমারের সাথে একবার কথা বললেই শেষ নয় – follow-up করুন।
  • প্রফেশনালিজম বজায় রাখুন – কাস্টমারকে কখনোই ছোট করবেন না।

শেষ কথা

একজন মার্কেটারের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার কমিউনিকেশন স্কিল  কাস্টমারের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পেশাদারভাবে যোগাযোগ করলে, কাস্টমার শুধু একবার নয় – বারবার আপনার কাছে আসবে। ইফেক্টিভ কমিউনিকেশন মানে শুধু কথা বলা নয়, বরং সঠিকভাবে কথা বলা, শুনতে পারা এবং কাস্টমারের চাহিদা বুঝে তার উপযোগী সমাধান দেওয়া।

এখনই সময় নিজের কমিউনিকেশন স্কিল আপগ্রেড করার! 

Don't wait!
Get the expert business advice You need in 2022

It's all include in our newsletter!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More To Explore
ভয়েস সার্চ অপটিমাইজেশন কেন ২০২৫ এ এত গুরুত্বপূর্ণ 
Marketing

ভয়েস সার্চ অপটিমাইজেশন কেন ২০২৫ এ এত গুরুত্বপূর্ণ 

আপনি কি কখনো কোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে Siri, Alexa, বা Google Assistant ব্যবহার করেছেন? তাহলে আপনিও বিশ্বের সেই ২০.৫% মানুষের মধ্যে যারা নিয়মিত ভয়েস সার্চ

প্রোমোশনাল এক্টিভিটিজ বিজনেস গ্রোথে কেমন ভূমিকা রাখে
Marketing

প্রোমোশনাল এক্টিভিটিজ বিজনেস গ্রোথে কেমন ভূমিকা রাখে

বলুন তো, কি দেখে শেষবার আপনি কোনো প্রোডাক্ট কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? হয়তো কোনো ডিসকাউন্ট? ফ্রি ট্রায়াল? অথবা সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো আকর্ষণীয় ক্যাম্পেইন, তাই না? মূলত,