ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সাফল্যের জন্য সফ্ট স্কিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কাস্টমার রা প্রায়ই চিন্তা করে যে একজন ডিজিটাল মার্কেটার কতটা ইফেক্টিভলি এবং কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন, তাদের সহযোগিতা করতে পারবেন এবং পরিবর্তনশীল এই ডিজিটাল ব্যবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর মূল বিষয়গুলিকে বুঝতে হবে সাথে সাথে নিজেকে তৈরি করতে হবে। এসইও, এসইএম, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, কনটেন্ট মার্কেটিং এবং ই-মেইল মার্কেটিং এর মতো প্লাটফর্মগুলি সম্পর্কে বিশদ ধারণা রাখতে হবে। প্রতিটি চ্যানেল কীভাবে ওভারঅল ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশলে কাজ করে তা জানতে হবে। অনলাইন কোর্স, ব্লগ এবং স্বনামধন্য ডিজিটাল মার্কেটিং প্ল্যাটফর্মগুলি এই দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে। ডিজিটাল মার্কেটারের জন্য এসেনশিয়াল সব সফ্ট স্কিল নিয়েই আজকের আলোচনা।
ডিজিটাল মার্কেটারদের জন্য ৭টি এসেনশিয়াল সফ্ট স্কিল হলো-
১. কমিউনিকেশন স্কিল বা যোগাযোগের দক্ষতা:
ডিজিটাল মার্কেটারদের জন্য ক্লিয়ার এবং ইফেক্টিভ কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ অত্যাবশ্যকীয়। সঠিকভাবে লিখিত ও মৌখিক উপায়ে যোগাযোগ করার দক্ষতা ডিজিটাল মার্কেটারের বার্তা গ্রাহকদের জানাতে এবং তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে। অন্যদের সাথে যোগাযোগ এবং প্রচারের নতুন কৌশল সম্পর্কে খুব ভাল ধারণা থাকতে হবে। গ্রাহকের চাহিদা বিশ্লেষণ এবং ক্রেতা তৈরি করতে হলে আপনাকে অন্যদের সাথে সহজে এবং কার্যকর উপায়ে যোগাযোগের দক্ষতা থাকতে হবে।

এজন্য স্যোশাল মিডিয়া, মেইলিং এবং অন্যান্য ওয়েবসাইট ব্রাউজিং এ দক্ষতা থাকা আবশ্যক। খুব সহজে অন্যদের সাথে মিশতে পারা, তাদের কনভিন্স করার দক্ষতা থাকা ডিজিটাল মার্কেটিং এ সফল ক্যারিয়ার গড়তে আপনাকে সাহায্য করবে।
২. সৃজনশীলতা:
ডিজিটাল মার্কেটারদের সবসময় সাধারণ চিন্তাধারার একটু বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে হয়, কেননা তাদের কন্টেন্টগুলোকে হতে হবে ক্রিয়েটিভ, ইউনিক এবং আকর্ষণীয়। সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করতে হবে উন্নতমানের প্রচার প্রচারণা। ডিজিটাল যুগের এই অনলাইন স্পেসে সৃজনশীলতা গ্রাহকদের মনোযোগ আকর্ষণে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

৩.টাইম ম্যানেজমেন্ট:
টাইম ম্যানেজমেন্ট ডিজিটাল মার্কেটারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তাদের কাজের কার্যকারিতা এবং সাফল্যের উপর বিশাল প্রভাব ফেলে। নিচে এই বিষয়ের কিছু মূল কারণ তুলে ধরা হলো:
১. কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি:
সময় ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটাররা তাদের কাজগুলিকে সঠিকভাবে প্ল্যান করতে পারে, যা তাদের কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি করে।
২. ডেডলাইন মেনে চলা:
ক্লায়েন্টের নির্ধারিত ডেডলাইন মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সময় ম্যানেজমেন্ট না করলে ডেডলাইন মিস হতে পারে, যা ক্লায়েন্টের অসন্তুষ্টি তৈরি করতে পারে।

৩. মাল্টি-টাস্কিং দক্ষতা:
ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে একাধিক প্রজেক্ট একসাথে হ্যান্ডেল করতে হয়। সময় ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে মাল্টি-টাস্কিং দক্ষতা বৃদ্ধি পায়, ফলে সব কাজ সঠিক সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়।
৪. শিখতে ও আপডেটেড থাকতে সহায়তা:
ডিজিটাল মার্কেটিং একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল ক্ষেত্র। সময় ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে নতুন স্কিল শেখা ও ট্রেন্ডের সাথে আপডেটেড থাকা সম্ভব হয়।
৫. ক্লায়েন্টের সাথে ভালো সম্পর্ক:
সময়মতো কাজ ডেলিভার করলে ক্লায়েন্টের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায়, যা ভবিষ্যতে আরো কাজ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে সময় ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য। সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল মার্কেটারদের পেশাদারিত্ব ও সফলতা নিশ্চিত করে।
৪. এডাপটাব্লিটি বা অভিযোজন ক্ষমতা:
ডিজিটাল ল্যান্ডস্কেপ ক্রমাগত নতুন প্রযুক্তি, প্লাটফর্ম এবং ট্রেন্ড অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল মার্কেটারদের এই পরিবর্তনগুলোর সাথে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে। যেমন: নতুন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম আয়ত্ত করা,AI এবং AR এর মতো নতুন নতুন প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া, সফ্ট স্কিল ডেভেলপ করা এবং ব্যবহার করা।

তাই ইন্ডাস্ট্রি নিউজলেটারগুলিতে যুক্ত থাকা, সোশ্যাল মিডিয়াতে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের অনুসরণ করা,এবং নিয়মিতভাবে প্রচার করা ব্লগ এবং কন্টেন্ট সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।
এর সাথে প্রফেশনালদের সাথে নেটওয়ার্ক করার জন্য ওয়েবিনার, সম্মেলন এবং ক্যাম্পেইন এ যোগ দিন এবং আপকামিং ট্রেন্ডগুলির থেকে সামনে এগিয়ে থাকতে এই দক্ষতার প্রয়োজন।
৫. অ্যানালাইটিক্যাল স্কিল:
ডিজিটাল মার্কেটিং এর কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ডাটা। ক্যাম্পেইন এবং ডিসিশন মেকিং এর জন্য ডাটা অ্যানালাইসিস করা খুবই জরুরি। এর জন্য গুগল অ্যানালিটিক্স, ফেসবুক ইনসাইটস এবং অন্যান্য অ্যানালিটিক্স প্ল্যাটফর্মের মতো টুলগুলির ব্যবহার জানতে হবে। ডেটা অ্যানালিটিক্স আপনাকে গ্রাহকদের আচরণ বুঝতে, ক্যাম্পেইন অপ্টিমাইজ করতে এবং ডেটা-চালিত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

অ্যানালাইটিক্যাল স্কিল আপনাকে মূলত মার্কেটারকে মূল মেট্রিক্স ট্রাক করতে,তার কৌশলগুলোর কার্যকারিতা পরিমাপ করতে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তন প্রয়োজন সেই ক্ষেত্রগুলো শনাক্ত করতে সাহায্য করে। একজন দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটার হওয়ার জন্য বেসিক জিনিসগুলি বোঝার পরেই আসে হচ্ছে অ্যানালিটিক্যাল সফ্ট স্কিল ডেভেলপ করার বিষয়টি।
৬. কোলাবোরেশান বা সহযোগিতা :
ডিজিটাল মার্কেটিং এ এককভাবে কাজ করে সফলতা অর্জনের হার খুবই কম। ক্যাম্পেইন এবং মার্কেটিং এর উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন ক্রস-ফাংশনাল টিমের সাথে (যেমন:ডিজাইনার,ডেভলপার এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটর) একযোগে কাজ করার দক্ষতা থাকাটা জরুরি। মনে রাখবেন, নেটওয়ার্কিং শুধুমাত্র মূল্যবান সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত করে না বরং ধারণা বিনিময় এবং ইন্ডাস্ট্রি পরিবর্তন সম্পর্কে অবগত থাকার জন্য একটি প্ল্যাটফর্মও প্রদান করে।

৭. ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সি বা আবেগগত বুদ্ধিমত্তা:
ডিজিটাল মার্কেটিং অডিয়েন্স, ক্লায়েন্ট এমনকি মার্কেটারদের নিজেদের সহ মানুষের আবেগের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কমপ্লেক্স ওয়েবে নেভিগেট করার সময় EI অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং প্রয়োজনীয় সফ্ট স্কিল এর মধ্যে EI থাকতে হবে। হাইলেভেল EI আছে এমন একজন ডিজিটাল মার্কেটারই পারে স্ট্রেসপূর্ণ পরিস্থিতি- যেমন ক্যাম্পেইনে সমস্যা, সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে।

প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি এই সফ্ট স্কিল গুলোকে আয়ত্ত করার মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটাররা এই পরিবর্তনশীল ডিজিটাল ল্যান্ডস্কেপে উন্নতি করতে পারে এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারে। তাই একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে আপনিও এই সফ্ট স্কিল গুলো ডেভেলপ করে এগিয়ে থাকুন সবার থেকে।

