বাংলাদেশী প্রথম ডিজিটাল বাস ট্র্যাকিং এবং টিকিটিং প্লাটফর্ম ‘ যাত্রী ‘

Jatri

Share This Post

Share on facebook
Share on linkedin
Share on twitter
Share on email

প্রায় ৪৭ শতাংশ যাত্রী প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করে। অনির্ধারিত বাস, দীর্ঘ সারি ধরে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা এবং লাইন ধরে বাসের টিকেট কাটা এবং আরও তো রয়েছে নিয়মিত লড়াই। যেহেতু যাতায়াত, আমাদের জীবন এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এই যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত যাত্রিদের এবং বাস অপারেটরদের উভয়ের মুখোমুখি হতে হয় এমন কিছু সমস্যা রয়েছে যার আসলে কোন সমাধান হচ্ছেনা।

ঠিক এই বিষয়গুলোকে মাথায় নিয়ে সকল সমস্যার সমধানের চেষ্টা নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশী ডিজিটাল ট্রান্সপোর্টেশন প্লাটফর্ম যাত্রি। যেহেতু জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে হলে যাতায়াত এর মান ও উন্নত করতে হবে এবং যাতায়াতকে করতে হবে খুবই সহজ ও নির্ঝামেলা। তাই ডিজিটাল সল্যুশন ব্যবহার করে যাতায়াতকে খুব সহজ এবং উন্নত করতেই কাজ করে যাচ্ছে প্লাটফর্মটি। আজকে আমরা কথা বলবো মাস ট্রান্সপোর্টেশন প্লাটফর্ম যাত্রী সম্পর্কে। 

যাতায়াত আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন আমরা যেই সমস্যাগুলো ফেস করতে থাকি তা সমাধান করাই ছিল আমাদের জন্য একটি অনেক বড়ো চ্যালেঞ্জ। ২০১৯ সালে এই জটিল সমস্যাগুলো কাজ শুরু করেন আজিজ আরমান। যিনি বর্তমানে প্লাটফর্মটির ফাউন্ডার এবং চীফ এক্সেকিউটিভ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ‘যাত্রি’ বাংলাদেশের প্রথম বাস ট্র্যাকিং এবং ডিজিটাল টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম। 

যাত্রী বর্তমানে তাদের প্লাটফর্ম এর মধ্যে বাস ট্র্যাকিং সার্ভিস,রাইড সুবিধা নেয়ার জন্যে কোচ সার্ভিস, ডিজিটাল টিকিটিং সার্ভিস এবং রেন্টাল সার্ভিস সুবিধা প্রোভাইড করে আসছে। 

কোনো রাইড সুবিধা নেয়ার পর বাস ট্রেকিং সার্ভিস থেকে আপনি জানতে পারবেন আপনার বাসটি এখন কোথায় আছে অথবা কতক্ষন সময় লাগবে পৌঁছাত। এই ক্ষেত্রে যেমন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে আর অপেক্ষা করতে হবেনা আবার অন্যদিকে খুব সহজে আপনি নির্দিষ্ট টাইম মত এসে বাস পেয়ে যাবেন।

এছাড়াও এই প্লাটফর্মটির থাকছে ডিজিটাল টিকেটিং এর সুবিধা। আপনি যে কোন জায়গা থেকে সেফলি (নিরাপদে) আপনার টিকেট কনফর্ম করতে পারবেন ঘরে বসেই তাদের এপপ্স এর মাদ্ধমে । এছাড়াও আপনার পছন্দমতো বাস সিলেক্ট করা এবং  আপনি জানতে পারবেন ওই বাসে কয়টা সিট এভেইলএবল আছে তার মাদ্ধমে কন্ফার্ম হয়ে টিকেট ইস্যু করতে পারবেন। 

এছাড়াও বর্তমানে তাদের রেন্টাল সার্ভিস টিও অনেক বেশি পপুলার। তার মাধ্যমে আপনার পছন্দ মত প্রয়োজনীয় গাড়ি আপনি রেন্ট করার সুবিধা পাবেন। বর্তমানে সিডান কার, মিনি মাইক্রোবাস, মাইক্রোবাস, মিনিবাস রেন্ট করার সুবিধা পাচ্ছেন তাদের ওয়েবসাইট এবং এপপ্স এর মাধ্যমে।

এছাড়াও আপনার ট্রিপ প্ল্যান করার সুবিধা, ট্রিপ হিস্ট্রি চেক করা, মান্থলি, উইকলি সাবক্রিপশন সুবিধা সহ বেশ কিছু সুবিধা দিয়ে আসছে ডিজিটাল ট্রান্সপরমেশন প্লাটফর্ম যাত্রী। বাস কোম্পানিগুলির জন্য, বাসের অবস্থান, যাত্রীদের পরিমাণের ডেটা এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে পর্যালোচনা প্রতিটি বাসের যাত্রা মসৃণ এবং নির্বিঘ্নে নিশ্চিত করার জন্য ক্রমাগত তথ্য সংগ্রহ করে আসছে প্লাটফর্মটি ।যাত্রির কাছে যেহেতু বিভিন্ন বাস কোম্পানি গুলোর ডেটা থাকার কারণে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল বাস ট্র্যাকিং সুবিধা দিয়ে আসছে এই প্লাটফর্ম টি । 

যাত্রি স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করার পূর্বে আজিজ আরমান একটি ফ্যাশন-টেক কোম্পানিতে কাজ করছিলেন। এর সপ্ন ছিল তিনি একজন উদ্যোক্তা হবেন। কিন্তু তিনি কনফিউজেড ছিলেন কোন সেগমেন্ট  কোন সেক্টরে উদ্যোগ নিবেন। 

যাত্রী

তার গ্রাজুয়েশন চলাকালীন সময়ে তার কিছু রিসার্স পেপার উপস্থাপন করার জন্য বিভিন্ন দেশে যেতেন। যেগুলো টেকনলোজিকাল অনেকে উন্নত। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেখানে বিনিয়োগকারীদের সাথে যোগাযোগ করবেন কারণ যে কোনো আইডিয়া ডেভেলপমেন্ট করতে গেলে প্রয়োজন ফান্ড। 

একটি উক্তি আছে বিজনেস আইডিয়া খুঁজে পাওয়া যায়না সেটা পাওয়া যায় আমাদের জীবনের সমস্যা গুলো সমাধানের মাধ্যমে। ঠিক সেরকমই আজিজ আরমান প্রতিদিন যাতায়াত করতে গিইয়ে রিয়ালাইজ করলেন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করার সময় মানুষ অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়। যেমন অসঙ্গতিপূর্ণ সময়সূচী, অর্থ প্রদানের অসুবিধা, প্রতিনিয়ত রুটগুলি পরিবর্তিত হওয়া। এই সমস্যাগুলি সমাধানের খুঁজতে গিয়ে তিনি তার পার্টনার, খন্দকার তাসওয়ার জাহিন, জিয়া ইউ আহমেদের সাথে সম্ভাব্য ধারণাগুলি অনুসন্ধান করা শুরু করে। মাসজুড়ে আলোচনার পর, তারা যাতায়াতকে চাপমুক্ত করার একটি পরিকল্পনায় স্থির করেছিলেন। 

যাত্রির স্টার্ট করার সময় যাত্রী এবং পরিবহন অপারেটর প্রত্যেককে বুঝাতে হয়েছিল এটি কিভাবে কাজ করে এবং কিভাবে তাদের জীবন ও ব্যবসা উন্নত করতে পারে। বাস কোম্পানি গুলোর সামনে এই বিষয় তুলে ধরার সময় অনেকে বুঝেছে অনেকে প্রাথমিকভাবে বুঝতে পারেনি যে যাত্রী কিভাবে তাদের সার্ভিসকে সাপোর্ট দিবে।। এটা যাত্রীর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিলো। তারা এই চ্যালেঞ্জ কে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে। 

২০১৯ সালে যাত্রির যাত্রা শুরু করেছিল দুটি বাস নিয়ে। যা শুধু মাত্র একটি রুট অতিক্রম করতো।  এক বছর এর কম সময়ের মধ্যে যত্রির বাস সংখ্যা দাঁড়ায় ১০০টিরো এবং তাদের রয়েছে ৩০ হাজারেও বেশি ইউজার যারা এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারেও বেশি টিকেটিং সার্ভিস এর মাধ্যমে রাইড সুবিধা নিয়েছে। বর্তমানে ঢাকার বনানীতে কর্পোরেট অফিস পরিচালনার পাশাপাশি লিঙ্কডিনে দেয়া তথ্য অনুসারে ৪০ জন এর উপর টীম মেম্বার নিয়ে কাজ করছে যাত্রি। 

রিসেন্টলি যাত্রি প্রথমবারের মতো তাদের ফান্ডিং কালেক্ট করেছে। গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট প্লাটফর্ম ওয়েভমেকার পার্টনার্সের নেতৃত্বে একটি সীড রাউন্ডে  ১.২  মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট প্লানার এবং মাস ট্রান্সপোর্টেশন প্লাটফর্ম টি ।  তাদের মোস্ট রিসেন্ট ইনভেস্টমেন্ট পার্টনার হলেন Brain-Too-Free Ventures and Reflect Ventures.

যাত্রী চায় ভবিষ্যতে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের মান উন্নত করতে। দীর্ঘমেয়াদে যানজট কমাতে। এবং প্রত্যেকের জীবনের এই অবিচ্ছেদ্য অংশ যাতায়াতকে ঝামেলা মুক্ত এবং সহজ করার পাশাপাশি তাদের সার্ভিস টি পুরো এশিয়া তে এক্সপ্যান্ড করা যার মাধ্যমে এশিয়ার একটি লিডিং বাস হেলিং অ্যাপ হিসেবে যাত্রীকে নিয়ে যাওয়া। 

Subscribe To Our Newsletter

Get updates and learn from the best

More To Explore

Jatri
Startup Story

বাংলাদেশী প্রথম ডিজিটাল বাস ট্র্যাকিং এবং টিকিটিং প্লাটফর্ম ‘ যাত্রী ‘

প্রায় ৪৭ শতাংশ যাত্রী প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করে। অনির্ধারিত বাস, দীর্ঘ সারি ধরে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা এবং লাইন ধরে বাসের টিকেট কাটা এবং