সংক্ষেপে ড্রপশিপিং- আপনার যা কিছু জানা দরকার

drop shipping

Share This Post

Share on facebook
Share on linkedin
Share on twitter
Share on email

এই ডিজিটাল যুগে এসে অনলাইন বিজনেস কে না করতে চায়? অনেক ধরণের সুযোগ রয়েছে অনলাইন বিজনেস করে নিজেকে স্বাবলম্বী করার। কিন্তু কোন বিজনেস খুব জনপ্রিয়, সবাই করছে তাই আপনি কোন সঠিক ধারণা না নিয়ে শুরু করলেন তাহলে আপনি সে বিজনেসে কখনো সাফল্য অর্জন করতে পারবেন না। আপনার জানতে হবে সেই বিজনেসে করার সঠিক পদ্বতি এবং সুবিধা অসুবিধা। 

অনলাইন বিজনেসের মধ্যে এমন কিছু বিজনেস আছে যা আপনি খুবই কম বিনিয়োগে করতে পারবেন। এই কম বিনিয়োগে করা অনলাইন বিজনেসের নাম শুনলে খুবই জনপ্রিয় একটি বিজনেস এর কথা আমরা শুনতে পাই তা হলো ড্রপশিপিং। 

 ড্রপশিপিং! আজকাল খুব জনপ্রিয় একটি বিজনেস।  ড্রপশিপিং এর সম্পর্কে শুনে নাই এমন খুব কম মানুষ পাওয়া যাবে। কিন্তু ড্রপশিপিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানে এমন মানুষের সংখ্যাও খুব কম।  ড্রপশিপিং নিয়ে বিস্তারিত জানার আগে জানা দরকার ড্রপশিপিং কি।  

ড্রপশিপিং কি? 

ড্রপশিপিং হচ্ছে এমন একটি খুচরা মডেল যেখানে বিক্রেতারা কোন পন্য স্টক করে না বা নিজস্ব ইনভেন্টরি রাখে না। যখন কোন পন্য বিক্রি হয় তখন সেই বিক্রেতা তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে জিনিসটি ক্রয় করে যা সরাসরি কাস্টমারের কাছে পাঠায়। 

যখন অর্ডার পাঠানোর কথা আসে বা প্রোডাক্ট ডেলিভারি দেয়ার কথা আসে সম্পুর্ন বিষয়ই  তৃতীয় পক্ষ দেখেন। কোন প্রোডাক্ট বিক্রেতার স্টক করে রখার প্রয়োজন হয়না। তারা তাদের মত যেকোন উপায়ে প্রোডাক্টটি কাস্টমার এর কাছে পাঠিয়ে দেয় বিক্রেতার পক্ষ হয়ে। তাই এখানে বিক্রেতাকে সরাসরি পণ্যটি পরিচালনা করতে হয়না।

 ড্রপশিপিং এর কি কি সুবিধা আছে? 
ড্রপশিপিং

১।  ড্রপশিপিং বিজনেস সেটাপ করা সহজঃ আপনার  ড্রপশিপিং বিজনেস করার জন্য পূর্বের কোন অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। শুরু করার আগে শুধু মাত্র এটার বেসিক গুলো জেনে নিতে হবে। আপনি যদি একটু সময় নিয়ে এটার বিস্তারিত সবকিছু জেনে নিন আপনার জন্যই ভালো। আপনি খুব জলদি বিজনেস শুরুও করতে পারবেন এবং জানতেও পারবেন কিভাবে সাকসেস হবেন।  এটার সেটাপ এর খরচ খুবই কম অন্যান্য বিজনেস এর তুলনায়। মানে চাইলে আপনি এখনই এই বিজনেস শুরু করতে পারবেন। শুধু দরকার বেসিক ধারণা, কিছু রিসোর্স জানা এবং কিছু টুল সম্পর্কে জানা। 

২।কম বিনিয়োগে শুরু করাঃ আপনি যে কোন বিজনেস করতে গেলে আপনি একা পারবেন না। সেখানে আপনার আরও ইমপ্লয়ি দরকার হবে। এরপর প্রোডাক্ট রাখার জন্য স্টোর দরকার। এই রকম কোন খরচ ই আপনার হবেনা  ড্রপশিপিং বিজনেসে। আপনার কোন প্রোডাক্ট স্টক করার চিন্তা থাকবেনা। কোন পন্য প্যাকেজিং, সংরক্ষন, বা শিপিং এর ব্যয় নেই। 

৩। সহজে ম্যানেজ করা যায়ঃ  যেহেতু প্রোডাক্ট সরাসরি কিনতে হচ্ছেনা। কোন প্রোডাক্ট স্টক করতে হচ্ছে না তাই স্টোর ম্যানেজ ঝামেলা নেই। তাই  ড্রপশিপিং স্টোর গুলো খুব সহজে সামলানো সম্ভব। 

৪। যে কোন জায়গায় পরিচালনা করা যায়ঃ যে কোন জায়গায় বসে ড্রপশিপিং বিজনেস পরিচালনা করা সম্ভব। শুধু মাত্র আপনার ইন্টারনেট কানেকশন প্রয়োজন। যাতে সাপ্লায়ারদের সাথে যোগাযোগ করা যায়। এমন কি সাকসেস্ফুল ড্রপশিপিং স্টোর গুলো বাসায় বসেই পরিচালনা হচ্ছে। আস্তে আস্তে বিজনেস বড় হলে কিছুটা ব্যয় বাড়তে থাকে কিন্তু তারপরেও ট্রেডিশনাল বিজনেসের চেয়ে কম।

৫। স্কেল করা সহজঃ আপনার বিজনেস এখানে স্কেল আপ করলেও মডেল তেমন চেঞ্জ হবেনা। আপনার সেলস এবং মার্কেটিং এ আরও জোড় দিয়ে কাজ করতে হবে। কিন্তু অর্ডার পসেসিং টাইম কিছুটা কমবে বা বাড়বে হয়ত।  ড্রপশিপিং বিজনেস বাড়াএ গেলে আপনার অখরচ আকাশ ছোয়া হয়না। তাই আপনি বিজনেসের মার্কেটিং এর দিকে আরো বেশি ফোকাস করতে পারেন।

 ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার জন্য ইনভেস্টিং

কোন বিজনেস শুরু করার জন্য তার নির্দিষ্ট কত খরচ হবে তা বলা মুশকিল। কিন্তু  ড্রপশিপিং বিজনেস করার জন্য কিছু ব্যয় নির্ধারণ। যেগুলো একটি  ড্রপশিপিং বিজনেস করার জন্য আপনার করতে হবে। 

  • অনলাইন স্টোরঃ একটি অনলাইন স্টোর সেটাপ করার জন্য মাসে আনুমানিক ভাবে ২৯ ডলার খরচ পরে। আপনার একটি ইকমার্স প্ল্যাটফর্ম লাগবে বা আপনার অনলাইন স্টোরেরে জন্য হোস্টিং এবং ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য কাউকে লাগবে। আমরা রেকমেন্ড করবো শপিফাই এ অনলাইন স্টোর শুরু করারা জন্য।  আপনি অনেক এডভান্স এবং ভালো কিছু ফিচার পাবেন শপিফাইয়ে।
  • ডোমেইন নেমঃ আনুমানিক হিসাব করে ধরা যায় ৫ডলার থেকে ২০ ডলার খরচ পরে। আপনি নিজের ডোমেইন ছাড়া কাস্টমারদের বিশ্বাস অর্জন করতে পারবেন না। প্রথমে এমন ডমেইন নেইম খুঁজে বের করতে হবে যেটা আপনার ব্র্যান্ড এর সাথে যায়।
  • অনলাইন এডভার্টাইজিংঃ আপনার অনলাইন এডভার্টাইজিং এ আনুমানিক ভাবে ৫০০ ডলার খরচ পড়বে। ই কমার্স বিজনেস অবশ্যই অর্গানিক ভাবে কাস্টমার খুঁজে নিবে সেটা হোক তাদের কন্টেন্ট মার্কেটিং দিয়ে বা এসিও দিয়ে। যাইহোক প্রোডাক্ট বেইজড বিজনেসের জন্য  এডভার্টাইজনিং অনেক গুরত্বপূর্ন। সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং, ডিসপ্লে এডস, সোশ্যাল মিডিয়া এডস এবং মোবাইল এডস এগুলো সবচেয়ে কমন মাধ্যম।
কিভাবে ড্রপশিপিং বিজনেস করে উপার্জন আয় করা যায়
  • আপনার প্রথমে টার্গেট অডিয়েন্স রিসার্চ করতে হবে
  • সঠিক নিশ সিলেক্ট করতে হবে।
  • সঠিক প্রোডাক্ট নিতে হবে।
  • কোন  ড্রপশিপিং সাপ্লায়ার এর সাথে কাজ করবেন তা ডিসাইড করতে হবে। 
  • কাস্টমার যাতে সেটিস্ফাই থাকে সেদিক নিশ্চিত করতে হবে। 

সঠিক সাপ্লায়ার অনলাইনে খুঁজে নেয়া খুবই জরুরি আপনার অনলাইনে সাকসেস এর জন্য। আপনার প্রয়োজন এমন কোম্পানি যা নির্ভরযোগ্য, কার্যকর এবং দক্ষ। 

Subscribe To Our Newsletter

Get updates and learn from the best

More To Explore

সোশ্যাল মিডিয়া
Case Study

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো কীভাবে মিলিয়ন ডলার আয় করে !

আসলে তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে যেসকল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে একটি ভার্চুয়াল কমিউনিটি বা কৃত্রিম সমাজ গড়ে তোলা যায় তাকেই মূলত সোশ্যাল মিডিয়া বা

বিজনেস আইডিয়া - Business idea
Business idea

ডিজিটাল সময়ে ২৩টি ইউনিক বিজনেস আইডিয়া

ইউনিক বিজনেস আইডিয়া খুঁজছেন? চাকরি করবো কেন, চাকরি দিবো এবং নিজের বস নিজে হবো। নিজস্ব বিজনেস থাকলে নিজের স্বাধীনতা থাকে। কখন, কোথায়, কিভাবে করবেন সবকিছু