মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে কেমন ইনস্টাগ্রাম কন্টেন্ট পাবলিশ করা উচিত?

ডিজিটাল বিজনেস শুরু করার ৮ টি সুবিধা (2)
Share This Post

বর্তমান ব্র্যান্ড মার্কেটিং স্ট্রাটেজিতে সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে সেগুলোর মধ্যে ইনস্টাগ্রাম কন্টেন্ট একটি অন্যতম শক্তিশালী টুলস হিসেবে পরিচিত।

এই প্লাটফর্মে সফল ভাবে মার্কেটিং করার জন্য যথাযথ কন্টেন্ট পাবলিশ করা গুরুত্বপূর্ণ। এমন কন্টেন্ট পাবলিশ করা উচিত যা এনগেইজিং, প্রাসঙ্গিক, এবং কাস্টমারকে আকর্ষণ করে। 

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে কেমন ইনস্টাগ্রাম কন্টেন্ট পাবলিশ করা উচিত, তা নিয়ে আলোচনা করবো এবং সেরা ৬টি কন্টেন্ট নিয়ে বিভিন্ন টিপস সরবরাহ করবো।

১। হাই-কোয়ালিটির ইমেজ 

একটি সফল ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং এ হাই-কোয়ালিটির ইমেজ অতি প্রয়োজনীয় একটি অংশ। 

ইন্সটাগ্রাম মুলত একটি ভিজ্যুয়াল প্লাটফর্ম যেখানে মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে অডিয়েন্সদের ইম্প্রেস করার জন্য তাদের সামনে আকর্ষণীয় এমন কিছু কন্টেন্ট তুলে ধরতে হয় যা তাদের প্রয়োজনীয়।

ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং এর জন্য হাই কোয়ালিটির ইমেজ তৈরি করার কিছু টিপস নিছে তুলে ধরা হলো:

  • হাই কোয়ালিটির ইমেজ ক্যাপচার করতে হাই কোয়ালিটির ক্যামেরা ব্যবহার করুন এতে সচ্ছ এবং নিখুত ইমেজ পেতে পারেন।
  • শুটিং এর সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সম্ভব হলে প্রাকৃতিক আলো দিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা করুন। রুমের ভিতরে শুটিং হলে অতিরিক্ত আলো ব্যবহার করবেন না।
  • বাইরে শুটিং করার ক্ষেত্রে যথাযথ আলো পাওয়ার জন্য সূর্যোদয়ের ঠিক পরে অথবা সূর্যাস্তের ঠিক আগে শুটিং করার চেষ্টা করুন।
  • ইমেজে আপনি চাইলে হাল্কা ফিল্টার ইউজ করতে পারেন কিন্তু এক্ষেত্রে ফিল্টারটিকে অবশ্যই আপনার ব্র্যান্ড এর কালারের সাথে মিল রেখে ইউজ করতে হবে।

২। ভিডিও

২ বিলিয়নের চেয়ে বেশি ইন্সটাগ্রাম প্লাটফর্মটির ব্যবহারকারীদের মধ্যে ভিডিও কন্টেন্ট এর জনপ্রিয়তা দিন দিন কেবল বৃদ্ধিই পাচ্ছে। 

ইন্সটাগ্রামের এই ভিডিও কন্টেন্টের মাধ্যমে আপনি আপনার ব্র্যান্ডকে অডিয়েন্সদের সামনে তুলে ধরতে পারেন। 

অডিয়েন্স যদি আপনার ব্র্যান্ডটিকে পছন্দ করে তবে তার সাথে আপনার একটি ভালো সম্পর্ক হয়ে উঠবে এবং এভাবেই ব্র্যান্ডটির প্রচার ঘঠবে। 

যাই হোক, ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং এ ভিডিও কন্টেন্ট বানানোর জন্য সঠিকভাবে পরিকল্পনা করার খুবই জরুরি। 

নিচে আমি এমন কিছু টিপস দিচ্ছি যেগুলো ফলো করে ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করলে আপনার ব্র্যান্ডটি অডিয়েন্সদের কাছে আকর্ষনীয় হয়ে উঠবে-

  • ভিডিও সবসময় ছোট রাখার চেষ্টা করবেন, কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে ভিডিও তে আপনার ব্র্যান্ডকে যেন প্রমোট করা হয়। ভিডিও ডিউরেশন ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ড রাখতে পারেন।
  • আপনার প্রয়োজনীয় ফুটেজ ক্যাপচার করার জন্য আগে থেকে সুষ্টুভাবে পরিকল্পনা করে রাখুন।
  • ভিডিওতে ক্যাপশন অবশ্যই ব্যবহার করবেন।
  • আপনার ভিডিওকে আরো আকর্ষনীয় করার জন্য ভিডিও তে মিউজিক এড করতে পারেন।
  • Adobe Premiere অথবা iMovie এর মতো বিভিন্ন ভিডিও এডিটিং টুলস ব্যবহার করতে পারেন। এই টুলস গুলোর সাহায্যে ভিডিওতে বিভিন্ন ইফেক্টও ইউজ করতে পারবেন।
  • Reels অথবা IGTV এর মতো ইন্সটাগ্রামে থাকা বিভিন্ন ফিচার ব্যবহার করতে পারে যার মাধ্যমে আপনার ভিডিও গুলো বিভিন্ন অডিয়েন্সের কাছে পোছে যাবে।

৩। ইন্সটাগ্রামে স্টোরি 

ইন্সটাগ্রামে স্টোরি

শুধু ইন্সটাগ্রামে নয়, বর্তমানে যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোতে স্টোরি এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

ইন্সটাগ্রামে প্রতিদিন প্রায় মিলিওন মিলিওন ব্যবহারকারী ইন্সটাগ্রাম স্টোরি ব্যবহার করছে। তাই এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে আপনার টার্গেট অডিয়েন্সকে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানাতে, আপনার ব্র্যান্ড প্রমোট করতে, এবং অডিয়েন্সের সাথে যুক্ত হতে ইনস্টাগ্রাম স্টোরি কন্টেন্ট তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

আপনার মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের জন্য কীভাবে কার্যকরী ইন্সটাগ্রাম স্টোরি কন্টেন্ট তৈরি করবেন? এখানে কিছু টিপস- 

  • আপনার স্টোরিটি যতটুকু সম্ভব ছোট রাখার চেষ্টা করুন। প্রতি স্লাইড ১৫ সেকেন্ড এর বেশি না রাখার প্রতি লক্ষ্য রাখুন। 
  • হাই রেজুলেশনের ভিডিও অথবা ছবি ব্যবহার করুন। 
  • স্টোরি কন্টেন্ট এবং আপনার প্রোডাক্টের সাথে সম্পর্কিত স্টিকার অথবা ইমুজি এড করতে পারেন। 
  • স্টোরিতে যথাযথ টেক্সট ব্যবহার করুন, তা যেন অডিয়েন্স সহজে বুঝতে পারে। 
  • কাস্টমারদের থেকে বিভিন্ন ফীডব্যাক পেতে এবং তাদের সাথে ইন্টারেকশন বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন পোল এবং প্রশ্ন যুক্ত করুন
  • নিয়মিত আপনার স্টোরি ট্র্যাক করুন এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন। 

৪। ইউজার-জেনারেটেড কন্টেন্ট 

ইন্সটাগ্রাম ব্র্যান্ড প্রমোট করার অন্যতম সেরা কার্যকরী একটি উপায় হচ্ছে ইউজার-জেনারেটেড কন্টেন্ট বা ইউজিসি। 

ইউজার-জেনারেটেড কন্টেন্ট যেকোনো কন্টেন্টকে বুঝিয়ে থাকে, তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে যে এ কন্টেন্ট গুলো কাস্টমারদের দ্বারা তৈরি হয়ে থাকে। 

তাই বুঝতে পারছেন, এটি কতটা পাওয়ারফুল। কারন এর মাধ্যমে আপনার অডিয়েন্সের দ্বারা সরাসরি আপনার প্রোডাক্ট বা ব্র্যান্ড মার্কেটিং হয়। 

এখানে ইউজার-জেনারেটেড কন্টেন্ট এর জন্য কিছু টিপস দেওয়া হলো, যা ইন্সটাগ্রামে আপনার ব্র্যান্ডকে প্রমোট করবে-

  • ব্র্যান্ডেড হ্যাশট্যাগ অথবা সিটিএ (কল-টু-একশন) এর মাধ্যমে আপনার অডিয়েন্সকে এমন কন্টেন্ট শেয়ার করতে উৎসাহিত করুন যা আপনার প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস ফিচার করে।
  • পূর্বে সর্বাধিক শেয়ার হওয়া উজিসি রি-পোস্ট করুন। তবে কিছুটা আপডেট করে নিলে আরও ভালো হয়। 
  • যারা আপনার কন্টেন্ট শেয়ার করবে তাদের প্রশংসা করুন। সেটা হতে পারে লাইক, কমেন্টস, কিংবা শেয়াররে মাধ্যমে। 
  • ইউজিসি তৈরিতে উৎসাহ প্রদান করতে বিভিন্ন ডিস্কাউন্ট অফার দিন।
  • নিয়মিত আপনার ইউজিসি মনিটরিং করুন এবং তা আরও উন্নত করার জন্য বিভিন্ন স্ট্রাটেজির সাহায্য নিন।  

৫। হ্যাশট্যাগ 

_হ্যাশট্যাগ

ইন্সটাগ্রাম কন্টেন্ট এর ক্ষেত্রে হ্যাশট্যাগ কিছুটা জটিল। 

তবে আপনি যদি এটি কার্যকর ভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তবে এটি রিচ, এনগেজমেন্ট, এবং ফলোয়ার্স বৃদ্ধি করতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করবে। 

এছাড়াও এটি আপনার পোস্টকে একটি ক্যাটেগরিতে রাখতে সাহায্য করবে, যা আপনার টার্গেট অডিয়েন্সরা সহজেই খুঁজে পেতে পারবে। 

হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করার কিছু কার্যকরী টিপস- 

  • রেলিভেন্ট হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করুন যা আপনার ব্র্যান্ড এবং টার্গেট অডিয়েন্সের সাথে সম্পর্কিত। 
  • আপনার ইন্ডাস্ট্রিতে জনপ্রিয় হ্যাশট্যাগ খুঁজে বের করুন এবং তা আপনার কন্টেন্ট এ যুক্ত করুন। এর মাধ্যমে আপনার কন্টেন্ট অডিয়েন্সের কাছে আরও বেশি পরিমাণে ভিজিবল হবে। 
  • নির্দিষ্ট অডিয়েন্সকে টার্গেট করতে আপনার নিশের সাথে সম্পর্কিত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করুন। এভাবে আপনার এনগেজমেন্ট বৃদ্ধি পাবে। 
  • হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করার সময়, এটি স্বচ্ছ এবং প্রাসঙ্গিক তা নিশ্চিত করুন। 
  • বিপুল সংখ্যক অডিয়েন্সের কাছে পৌছাতে, বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ মিক্স করে ব্যবহার করুন। 

৬। ইন্সটাগ্রাম রিলস 

ফলোয়ার্সদের সাথে বিভিন্ন শর্ট-ফর্ম এবং এনগেইজিং ভিডিও শেয়ার করতে ইন্সটাগ্রামের নতুন এই রিলস ফিচারটি চমৎকার।

টার্গেট অডিয়েন্সের সাথে সংযুক্ত হতে এবং প্রোফাইলে এনগেজমেন্ট বৃদ্ধি করতে ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টুল।

কার্যকরভাবে ইনস্টাগ্রাম রিলস ব্যবহার করার কিছু টিপস:

  • ভিডিওতে এমন কিছু রাখার চেষ্টা করুন যা ভিওয়্যারের মনোযোগ দ্রুত ক্যাপচার করতে সক্ষম হবে। 
  • রিলসের রিচ বাড়াতে জনপ্রিয় মিউজিক, সাউন্ড, এবং হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করুন। 
  • কন্টেন্ট যতটুকু সম্ভব স্বচ্ছ এবং সেই সাথে মজাদার রাখতে চেষ্টা করুন। 
  • আপনার ব্র্যান্ডের বিশেষত্ব এবং কেন তা ইউনিক তা তুলে ধরুন। 
  • ভিডিও নিয়মিত আপলোড করার চেষ্টা করতে হবে এবং এনালাইটিক ইউস করে পারফরম্যান্স ট্র্যাক করতে হবে। রিলস ভিডিও নিয়মিত আপলোড করুন। 

উপসংহার

অসংখ্যা টার্গেট অডিয়েন্সের সাথে যুক্ত হতে এবং বিজনেস প্রমোট করতে  ইনস্টাগ্রাম কন্টেন্ট বেশ চমৎকার একটি টুলস হিসেবে কাজ করে।

ইনস্টাগ্রামে প্রাসঙ্গিক সব কন্টেন্ট তৈরি করার মাধ্যমে যা ফলোয়ার্সদের জন্য উপকারী, মার্কেটাররা খুব সহজেই একটি লয়াল ফ্যান বেস তৈরি করে ফেলতে পারবেন। 

ফলস্বরুপ সেল ও প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। 

Don't wait!
Get the expert business advice You need in 2022

It's all include in our newsletter!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More To Explore
কাস্টমার সার্ভিস স্কিলস ইম্প্রোভ করার ৭টি টিপস
Marketing

কাস্টমার সার্ভিস স্কিলস ইম্প্রোভ করার ৭টি টিপস

কাস্টমার সার্ভিস হল বিজনেস সুদুরপ্রসারি করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেপ। কাস্টমারই আপনার বিজনেস এর লক্ষ্য, আপনার প্রোফিট এর উৎস। তাই কাস্টমার সন্তুষ্ট করতে, একটা ওয়েল স্ট্র্যাকচারড

মার্কেটিং এর জন্য টুইটার অ্যালগরিদম কিভাবে ইউজ করবেন
Marketing

মার্কেটিং এর জন্য টুইটার অ্যালগরিদম কিভাবে ইউজ করবেন

আপনি কি টুইটারের মাধ্যমে এনগেজমেন্ট বাড়াতে এবং লিড তৈরি করতে চাইছেন? অথবা সম্ভবত আপনি আপনার ব্র্যান্ড রেপুটেশন বাড়াতে টুইটার অ্যালগরিদম নেভিগেট করাকে বেশ চ্যালেঞ্জিং মনে