ক্যারিয়ারে সফল হওয়ার জন্য একজন মেন্টর কেন প্রয়োজন ?

মেন্টর

Share This Post

Share on facebook
Share on linkedin
Share on twitter
Share on email

পরামর্শক বা মেন্টর আসলে কি? হোমারের “অডিসি” কাব্যে আমরা ‘মেন্টর ’ নামে একটি চরিত্র খুঁজে পাই। অডিসি কাব্যগ্রন্থে ‘মেন্টর ’ ছিলেন ইউলিসিসের বন্ধু যার কাজ ছিল ইউলিসিসকে বিভিন্ন কাজে উপদেশ ও পরামর্শ প্রদান করা। আমরা ধরে নেব এ শব্দটির অর্থ হলো এমন একজন ব্যাক্তি যে কিনা তারই ওয়ার্ক ইন্ডাস্ট্রির নতুন কাউকে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করবে। প্রত্যেক মানুষের জীবন চলার পথে একজন পরামর্শদাতার প্রয়োজন পড়ে। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে একজন পরামর্শদাতার গুরুত্ব অপরিসীম। একজন যোগ্য পরামর্শদাতা চাইলে একজন মানুষের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। আপনি যে অফিসে চাকরি করছেন বা যেই ইন্ডাস্ট্রিতে বিজনেস করছেন ওখানে যদি আপনার একজন বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা থাকেন তবে তা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য হবে খুবই দারুন এবং হেল্পফুল একটি স্টেপ।

আপনি যদি কাউকে মেন্টর হিসেবে চান তবে ঠিক করতে হবে তার কাছ থেকে আপনি আসলে কি চাচ্ছেন। একজন মেন্টর তার অভিজ্ঞতার আলোকে আপনাকে কেবল সঠিক পথ দেখিয়ে দিতে পারেন, প্রেরণা যোগাতে পারেন কিন্তু কর্মক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো আপনাকেই মোকাবেলা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতার উন্নয়ন করাও আপনারই কাজ।  

তাহলে কি কি কারণে মেন্টর প্রয়োজন ?

মেন্টর

১. প্রপার মেন্টর থাকলে আপনি প্রপার দিক নির্দেশনা পাবেন। মেন্টর এর পথচলায় যে ভুল গুলো ছিল সেগুলো আপনার ক্ষেত্রে না করার একটা সুযোগ থাকে। 

২. ওয়ার্ক লাইফ এ ভালো করার জন্য নতুন নতুন এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হতে পারেন এক মেন্টর। 

৩. কোন কাজের প্রস্তাবটি গ্রহণ করবেন ও কোনটি বর্জন করবেন তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একজন পরামর্শক মূখ্য ভূমিকা রাখতে পারেন।

৪. কর্মক্ষেত্রে কিন্তু চ্যালেঞ্জগুলো আপনাকেই মোকাবেলা করতে কিন্তু মেন্টর থাকলে ক্রিটিকাল ডিসিশন নেয়ার ক্ষেত্রে অনেক হেল্প পাওয়া যায়। 

৫.মেন্টর যে পথটি  ৫ বছরে পাড়ি দিয়েছেন তার চ্যালেঞ্জ গুলো জেনে আপনি সেই পথ আরো অনেক কম সময়ে পারি দিতে পারবেন। 

৬. আপনার ইন্ডাস্ট্রির গত ১০ বছরের আপস এন্ড ডাউন সম্পর্কে রিয়েল লাইফ এক্সপেরিয়েন্স সহ খুঁটিনাটি জানতে পারবেন। যেটা ব্লগ বা ভিডিও বা গুগল করে জানা সম্ভব হবে না। 

৭. কর্পোরেট কমিউনিকেশন এর ক্ষেত্রে কখন কিভাবে কোন স্টেপটি নেয়া উচিত সেই সম্পর্কে সঠিক দিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে। 

এখন প্রশ্ন আসে সঠিক মেন্টর কিভাবে বা কাকে আপনার মেন্টর হিসেবে গ্রহণ করবেন?

১. প্রথমত মেন্টরকে আপনার ওয়ার্ক ইন্ডাস্ট্রির হতে হবে 

২. মেন্টর এমন একজন হওয়া উচিৎ যিনি মিনিমাম গত ৫-৭ বছর একটি সেক্টর এ কাজ করছেন অথবা (মিনিমাম ৮০০ থেকে ১০০০ ঘন্টা ) ডেডিকেটেডলি কাজ করার এক্সপেরিয়েন্স অবশ্যই রাখেন। 

নোট – ২০০৮ সালে প্রকাশিত ” Outliers: The Story of Success” বইতে “১০ হাজার ঘন্টা ” কোনো একটি বিষয়ের উপর ডেডিকেটেডলি সময় দিলে তাকে সে বিষয়ে এক্সপার্ট বলা হয়ে থাকে।  সেক্ষেত্রে প্রতিদিন ৯০ মিনিট করে ২০ বছর একিই বিষয়ে ডেডিকেটেডলি কাজ করতে হবে। এই সময়টাকে “10,000 hours is the magic number of greatness.” বলা হয় ।

৩. এমন একজনকে মেন্টর হিসেবে বাছাই করুন যার জীবনের লক্ষ্য আপনার জীবনের লক্ষ্যের সাথে মিল থাকবে।

৪. হাতে সময় নেই এমন মানুষকে মেন্টর হিসেবে বাছাই করা ঠিক নয়, আপনি প্রয়োজন এ তার সহযোগিতা নিতে পারবেন বা সময় দেওয়ার মত সুযোগ যার আছে তাকেই মেন্টর হিসেবে বেছে নিবেন।

৫. আপনার ইন্ডাস্ট্রি বা আপনার সেক্টর এ তার মিনিমাম ১০ হাজার ডলার উপার্জন থাকতে হবে। 

মোটকথা আপনার স্বপ্নে তিনি সফল এবং তার পরামর্শগুলো আপনার পথচলাকে আরো বেশি স্মুথ করতে পারে এমন একজনকে আপনার আইডল বা মেন্টর বা পরামর্শদাতা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। 

এক্ষেত্রে আপনার করণীয় কি?

মেন্টর

১. আপনার নিজেকে এমন ভাবে উপস্থাপন করতে হবে যাতে আপনাকে মেন্টরশীপ দেয়ার বিষয়ে আগ্রহ থাকে। তার মানে আপনাকে ডেডিকেটেড থাকতে হবে। 

২. আপনার সম্ভাব্য মেন্টর এর সাথে সম্পর্ক তৈরির জন্য আপনাকে প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে, কারণ প্রয়োজনটা আপনার।

৩. মেন্টরশীপ তৈরির জন্য আপনাকে অবশ্যই যথেষ্ট সময় দিতে হবে।

৪. যিনি আপনার মেন্টর হওয়ার যোগ্যতা রাখেন তার মানে তিনি আপনার সেক্টর এ সফল, তারও সময়ের গুরুত্ব আপনাকে বুজতে হবে। 

৫. শুধু যে সমস্যায় পড়লেই মেন্টরের কাছে যাবেন ব্যাপারটা আসলে তা নয়, নতুন চাকুরী কিংবা আপনার ক্যারিয়ারের যে কোন সাফল্যে মেন্টরদেরকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলবেন না। অপরদিকে আপনার মেন্টরের ক্যারিয়ারের যে কোন সাফল্যেও ‘অভিনন্দন’ জানাতে এক মুহূর্ত দেরি করবেন না। এভাবেই মেন্টর–মেন্টির সুন্দর সম্পর্কটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।  

আসলে মেন্টর আমাদেরকে সাপোর্ট দেন, অনুপ্রেরণা যোগান, যেকোন সমস্যার সমাধান সহ ফিডব্যাক দেন এবং হয়তো আইডিয়া দিয়ে আমাদের চলার পথকে আরো সহজ করে দেন। সেই সাথে আত্নবিশ্বাস যোগানো আর চিন্তার পরিধি বাড়াতেও কাজ করে থাকেন। আর এইসব কিছুই আমাদেরকে পুরো ক্যারিয়ারে সাফল্য পেতে অবদান রাখে। 

Subscribe To Our Newsletter

Get updates and learn from the best

More To Explore

Jatri
Startup Story

বাংলাদেশী প্রথম ডিজিটাল বাস ট্র্যাকিং এবং টিকিটিং প্লাটফর্ম ‘ যাত্রী ‘

প্রায় ৪৭ শতাংশ যাত্রী প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করে। অনির্ধারিত বাস, দীর্ঘ সারি ধরে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা এবং লাইন ধরে বাসের টিকেট কাটা এবং