৮টি উপায়ে ই-কমার্স সাইটে বেশী ট্রাফিক ড্রাইভ করুন

৮টি উপায়ে আপনার ই-কমার্স সাইটে বেশী বেশী ট্রাফিক ড্রাইভ করুণ
Share This Post

আপনি যদি আপনার কাঙ্ক্ষিত কাস্টমারদের কাছে আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটি কিভাবে কাজ করছে তা সম্পর্কে জানাতে চান তবে আপনার ওয়েবসাইটে একটি ট্রাফিক ট্র্যাক ব্যবহার করতে হবে। কাস্টমাররা যদি আপনার ওয়েবসাইটটি দ্বারা উপকৃত না হয় অর্থাৎ আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটটি যদি কম ব্যবহৃত বা ভিজিট করা হয় তাহলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তখন আপনি আপনার ওয়েবসাইটটি দ্বারা যেসব সেবা প্রদান করতে চাচ্ছেন তা সঠিকভাবে কাস্টমারদের কাছে পৌঁছাতে পারবেন না। 

আজকে আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করব এমনই ৮টি উপায় যা আপনার ই-কমার্স সাইটে বেশী বেশী ট্রাফিক ড্রাইভ করতে সাহায্য করবে।

প্রথমত আমরা ওয়েবসাইট ট্রাফিক বলতে কি বুঝি?

ওয়েবসাইট ট্রাফিক হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটটি মোট কতজন মানুষ ব্যবহার করছে তা নিশ্চিত  করা। যেসব কাস্টমার আগে থেকেই আপনার ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করেছে বা যারা নতুন ব্যবহার করছে বা কাস্টমাররা কোন বিষয়গুলোর প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে অথবা কোন পেইজ গুলো কাস্টমাররা বেশি ব্যবহার করছে ইত্যাদি নানা ধরনের কাজ এ ওয়েবসাইট ট্রাফিকের অন্তর্ভুক্ত।

কিভাবে আপনি আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের জন্য ট্রাফিক ড্রাইভ তৈরি করতে পারেন? 

নিচের বিস্তারিত এমনই ৮টি উপায় সম্পর্কে আপনাদেরকে জানাবো যা কিনা আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট টির জন্য ট্রাফিক ড্রাইভ তৈরি করতে সাহায্য করবে।

১। প্রোডাক্ট বিক্রয়ের প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে কাস্টমারদের আকৃষ্ট করে ট্রাফিক ড্রাইভ করুন

ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলোর অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে তাদের ওয়েবসাইটের প্রতি  কাস্টমারদের আকর্ষণ ধরে রাখা। আর এই কাজটি সফলভাবে করতে চাইলে আপনাকে বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। 

যেমনঃ ডিসকাউন্ট অফার, অথেন্টিক প্রোডাক্ট বিক্রি করা, বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান উপলক্ষে ছাড় দেয়া, বাই ওয়ান গেট ওয়ান অফার, কোম্ব প্যাকেজ,  কুপন সিস্টেম তৈরি করার মাধ্যমে পণ্য কেনার সুবিধা প্রদান, নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য ফ্রী শপিং এর ব্যবস্থা করা, কোন ধরনের প্রোডাক্টের মার্কেটিং বা প্রচারণার জন্যে প্রোডাক্টটির কিছুটা মূল্য হ্রাস করা, ডেলিভারি ফ্রি অফার  – এই ধরনের নানা বিষয় তুলে ধরার মাধ্যমে কাস্টমারদের আপনার কি কোন ওয়েবসাইটে ভিজিট করার জন্য বাধ্য করা। যা কিনা আপনার  ই-কমার্স ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। 

২। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রতি গুরুত্ব দেয়া 

প্রতি মাসে প্রায়  2 বিলিয়ন এর বেশি সংখ্যক মানুষ ফেসবুক নামক সোশ্যাল মিডিয়ার একটি প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে থাকে। তাই ই-কমার্স ওয়েবসাইটের ট্রাফিকের জন্যে ফেসবুকের কিছু উপকারী দিক রয়েছে। 

আপনি ফেসবুকে আপনার ব্র্যান্ডের বিজনেস পেজ খোলার সুবিধার মাধ্যমে কাস্টমারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেন। যেখানে কাস্টমাররা তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি পাওয়া ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের বিক্রয় প্রচার-প্রচারণা অথবা বিজ্ঞাপন সম্পর্কে সহজে ধারণা পেতে পারে। এছাড়াও ফেসবুকের মাধ্যমে আপনি আপনার প্রোডাক্টের প্রচার প্রচারণার জন্যে বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করতে পারেন,আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট সুবিধাগুলো কাস্টমারদের কাছে তুলে ধরতে পারেন অথবা ফেইসবুক শপকে ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর সাথে সংযুক্ত করার মতো সুবিধাও পাওয়া সম্ভব এ ফেসবুক ব্যবহার করে। ই-কমার্স ওয়েবসাইটের ট্রাফিক তৈরি করার জন্য ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রতি গুরুত্ব দেয়া অপরিসীম। 

৩। ইনস্টাগ্রামের সাহায্যে আপনার বিজনেস সাইটটি সকলের কাছে তুলে ধরুন

ইনস্টাগ্রামের মতো বড় প্ল্যাটফর্ম কে আপনি ব্যবহার করতে পারবেন আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বৃদ্ধির জন্যে। 

ইনস্টাগ্রামের বায়োতে আপনি আপনার ই-কমার্স  ওয়েবসাইটের লিংক প্রদান করতে পারেন যেটি কিনা কাস্টমারদের  সহযোগিতা করবে আপনার ওয়েবসাইটটির সাথে সরাসরি  সংযুক্ত থাকার ক্ষেত্রে। আপনার প্রোডাক্ট ক্যাটালগের ডুপ্লিকেট যেন কেউ না তৈরি করতে পারে  সেজন্যে আপনি চাইলেই আপনার প্রোডাক্ট এর অথবা ওয়েবসাইটের  বিজ্ঞাপনগুলো বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করে  ইনস্টাগ্রামের স্টোরি অথবা রিলসে প্রদান করতে পারেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রামের সাথে আপনার ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি সংযুক্ত করে কাস্টমারদের জন্য ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে পারেন। যার সাহায্যে কাস্টমাররা ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে আপনার ওয়েব সাইট থেকে সরাসরি পণ্য কিনার মত সুবিধা পেতে পারে নিমেষেই।

৪. ইমেইল মার্কেটিং এর ব্যবস্থা করে ট্রাফিক ড্রাইভ করা সহজ

ই-কমার্স এর ক্ষেত্রে ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমেও আপনার ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বৃদ্ধি করা সম্ভব। আর এজন্যে আপনাকে প্রথমেই একটি ইমেইল লিস্ট তৈরী করতে হবে।

এক্ষেত্রে আপনাকে ই কমার্সের জন্য ইমেজ প্ল্যাটফর্ম গুলো খুঁজতে হবে যেখানে আপনি – 

খুব সহজেই কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন, বিভিন্ন ধরনের টেমপ্লেট কাস্টমাইজ করতে পারবেন অথবা যেসব প্লাটফর্মের মাধ্যমে আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট সম্পর্কে তথ্য প্রদান করতে পারবেন সহজেই। 

ইমেইল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে আপনি যে তথ্য কাস্টমারদের কাছে পৌঁছাতে চাচ্ছেন তা যেন সুন্দর এবং সংক্ষিপ্ত কিছু লাইনের টেক্সট হয়। ইমেইল মার্কেটিং এর সাবজেক্ট লেখার ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে সাবজেক্টি যেন সংক্ষিপ্তাকারে হয়। কাস্টমাররা যেন  সাবজেক্টটি পড়েই সম্পূর্ণ তথ্য সম্পর্কে জানতে পারে। আর এই ইমেইল মার্কেটিং কাস্টমারদের যত বেশি আকৃষ্ট করতে পারবে  আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর ট্রাফিক তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। 

৫। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ট্রাফিক ড্রাইভের জন্যে জরুরী

আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীরা কি ধরনের প্রোডাক্ট সার্চ করছে বা তাদের প্রয়োজনীয়তা ও পছন্দের উপর ভিত্তি করে  সেইসব বিষয়গুলোকে সহজেই খুঁজে বের করে দেয়ার একটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। এর সাহায্যে কাস্টমার খুব সহজেই তার কাঙ্খিত জিনিসটিকে খুঁজে পেতে পারে।

আপনি যদি আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার কাস্টমারদের কাছে একটি ভালো সার্চ ইঞ্জিন সেবা প্রদান করতে পারেন তবে তা আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট ট্রাফিক বৃদ্ধি করতে অনেকাংশেই সাহায্য করবে। কাস্টমাররা যখন তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসটি দ্রুত খুঁজে পাবে তখন সেই ওয়েবসাইটটি সম্পর্কে তাদের মাঝে একটি পজিটিভ দিক ফুটে উঠবে। তাই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ওয়েবসাইট ট্রাফিকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বললেই চলে 

৬। কন্টেন্ট মার্কেটিং তৈরি করা 

আপনি যদি আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটটি জনপ্রিয় করে তুলতে চান অর্থাৎ সকল মানুষের কাছে আপনার ব্রান্ড সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দিতে চান তবে কনটেন্ট মার্কেটিং অসাধারণ একটি পন্থা। 

কাস্টমারদেরকে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলার জন্য বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট এর উপর ভিত্তি করে ব্লগিং, ভিডিও, ইনফোগ্রাফিক সহ ইত্যাদি নানা ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। এগুলো আপনার প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন  অথবা মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। ব্লগিং, ভিডিও,  ইনফোগ্রাফের সাহায্যে মানুষ আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটটি সম্পর্কে যেমন ধারণা পাবে তেমনি সে ওয়েবসাইটটির প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়বে আর যা কিনা ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

৭। ইনফ্লুয়েন্সার বা ব্রান্ড পার্টনারদের সাথে সংযুক্ত থাকা 

কাস্টমারদের বিশ্বাস বাড়ানোর ক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য নিতে হবে তাঁদের কাছে যারা বেশ বড় ধরনের অডিয়েন্সের সাথে সংযুক্ত। ইনফ্লুয়েন্সার বা ব্রান্ড পার্টনার যারা কিনা একটি বড় ধরনের জনবলকে তাদের কাজের মাধ্যমে আকৃষ্ট করতে পেরেছে তাদের সাহায্যে আপনিও  আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট টির মার্কেটিং অথবা বিজ্ঞাপন সকলের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন সহজেই।

তাই আপনাকে  ইনফ্লুয়েন্সার বা ব্রান্ড পার্টনারদের সাথে সংযুক্ত থাকতে হবে আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট ট্রাফিক বৃদ্ধি করার জন্য। আপনি সহজেই তাদের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটটির সুবিধাগুলো সম্পর্কে, বিভিন্ন ধরনের অফার সম্পর্কে বা প্রোডাক্টের বিভিন্ন ধরনের তথ্যাদি সম্পর্কে জনগণকে জানাতে পারেন। তাদের  ব্লগ ভিডিও ফেসবুক পোস্ট ইনস্টাগ্রাম পোস্ট এসব ক্ষেত্রে সাহায্য করে থাকে। তাই এটিও একটি অন্যতম ওয়েবসাইট ট্রাফিক বৃদ্ধির উপায়। 

৮। গুগলে বিজ্ঞাপন দেয়া 

আমরা সবসময় গুগলে  কিছু না কিছু সার্চ করে থাকি। সার্চ করার পরে কাঙ্খিত রেজাল্টে প্রবেশ করলে আপনি লক্ষ্য করবেন যে  বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন ও ভিডিও দেয়া থাকে। এগুলো আপনার মনোযোগ আকৃষ্ট করার জন্য  করা হয়ে থাকে। আর এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করেই ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বৃদ্ধি করা সম্ভব। 

আপনি আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটটির প্রচার প্রচারণার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন, ভিডিও, ব্লগ লিংক গুগলে সংযুক্ত করে গুগল ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে পারেন অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটটি সম্পর্কে তাদের মাঝে  আগ্রহ বাড়িয়ে তুলতে পারেন। 

গুগল বিজ্ঞাপন দেয়ার ক্ষেত্রে  আপনি আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট  সম্পর্কে টেক্সট অথবা লেখা ব্যবহার করতে পারেন,  বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্টের শপিং বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারে,  এনিমেটেড  বিজ্ঞাপন অথবা ভিডিওর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন গুগল ব্যবহারকারীদের  কাছে। গুগল ব্যবহারকারীরা এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরাসরি আপনার ওয়েবসাইটের সাথে সংযুক্ত থাকতে পারে যা কিনা আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর ট্রাফিক বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

Don't wait!
Get the expert business advice You need in 2022

It's all include in our newsletter!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More To Explore
ডিজিটাল মার্কেটিং এ নিশ বেজড কম্পিটিটর রিসার্চ কিভাবে করবেন
Marketing

ডিজিটাল মার্কেটিং এ নিশ বেজড কম্পিটিটর রিসার্চ কিভাবে করবেন?

আপনার বিজনেস নিশ কি হবে? কি নিয়ে কাজ করবেন? বা কোন মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিই এপ্লাই করবেন। সব কিছু সিলেক্ট করার আগে মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট ফ্যাক্ট হচ্ছে কম্পিটিটর

প্যাশনকে প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড সাকসেস এ পরিণত করুন
Marketing

প্যাশনকে প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড সাকসেস এ পরিণত করুন

জীবনে সাকসেসফুল হতে হলে অবশ্যই আপনাকে আপনার যেকোনো ধরনের কাজের প্রতি দৃঢ় প্যাশন গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সকলের কিছু ভালো লাগার জিনিস রয়েছে যেমন ছবি আঁকা।