ডোমেইন কি, কিভাবে কিনব এবং কোন বিষয় গুলো খেয়াল রাখতে হবে?

ডোমেইন কি কিভাবে কিনব এবং কোন বিষয় গুলো খেয়াল রাখতে হবে
Share This Post

ডোমেইন কি?

ডোমেইন হচ্ছে কোন একটা ওয়েবসাইটের নাম। প্রত্যেক ওয়েবসাইটের একটি নির্দিষ্ট আইপি এড্রেস থাকে, আপনি চাইলে সেই আইপি এড্রেস আপনার ওয়েব ব্রাউজারের এড্রেসবারে সার্চ দিয়ে ওয়েব সাইটটি দেখতে পারবেন। কিন্তু আইপি এড্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট মনে রাখা কষ্টসাধ্য। তাই মনে রাখার সুবিধার্তে আইপি ঠিকানার পরিবর্তে ডোমেইন নাম ব্যবহার করা হয়। এছাড়া এক বা একাধিক ওয়েবসাইট কে ইন্টারনেট এ চেনার জন্যও ডোমেইন নাম ব্যবহার করা হয়। যেমন, www.google.com এটি একটি ওয়েব সাইট যা সকল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তার ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে দেখতে পারে। এখানে তিনটি www হচ্ছে যথাক্রমে (world wide web) আর google.com হচ্ছে সেই ওয়েব সাইটের মূল নাম। 

আইক্যান (ICANN) কি?

আইক্যান (ICANN) এর পূর্ণরূপ হলো, (Internet Corporation for Assigned Names and Numbers) এটি একটি অমেরিকান ননপ্রফিট অর্গানাইজেশন। তবে এর কার্যক্রম চালাতে গিয়ে যা খরচ হয় তা বহন করে আমেরিকান একটি মাল্টিস্টেকহোল্ডার গ্রুপ। ১৯৯৮ সালে আইক্যান প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্যই ছিলো সিকিউর এবং স্ট্যাবল ইন্টারনেট নিশ্চিত করা।

বর্তমানে আইক্যান (ICANN) সারা বিশ্বের ডোমেইন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। ইন্টারনেটকে স্ট্যাবল এবং সিকিউর রাখতে কাজ করে আইক্যান। তবে আইক্যান এর মেইন কাজ হলো, রেজিষ্ট্রি অপারেটরদের ও রেজিষ্ট্রারদের নিয়ন্ত্রণ করা এবং কাস্টোমারদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করা। এছাড়া TLD ডোমেইনের জন্য বিভিন্ন পলিসি তৈরি করে ICANN বর্তমানে যত ডোমেইন প্রোভাইডার আছে তাঁরা প্রত্যেকেই ডিরেক্টলি অথবা ইনডিরেক্টলি ICANN দ্বারা স্বীকৃত এবং নতুন যারা ডোমেইন প্রোভাইড করতে চায় তাঁদের ও ICANN থেকে অনুমতি নিতে হয়। 

ডোমেইনের প্রকারভেদ (Types of Domain)

ডোমেইন অনেক প্রকারের হয়ে থাকে। নিচে,আমরা ডোমেইন এর প্রকারভেদ গুলো নিয়ে আলোচনা করবো। এতে করে, যখনি আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন কেনার কথা ভাববেন, তখন সঠিক একটি ডোমেইনের সিলেক্ট করতে পারবেন।

১. TLD – Top Level Domains

Top level domain (TLD) ডোমেইন গুলি “Internet Domain Extension” এর মধ্যে সব থেকে বেশি মূল্যবান এবং অগ্রাধিকার পাওয়া domain extension। এই ডোমেইন নেম গুলি সব থেকে বেশি ব্যবহার করা হয়। একটি সম্পূর্ণ ডোমেইন নামের একেবারে শেষের অংশটি ডট (.) চিহ্নের পরের অংশটি হলো ডোমেইন এক্সটেনশন।

উদাহরণ স্বরূপ, যদি আমরা আমাদের ওয়েবসাইট এর কথা বলি তাহলে, uddoktahoi.com আমাদের ডোমেইন নাম এবং ডটের (.) পরের “com” শব্দটি হলো আমাদের “Top Level Domain Extension”.

একটি, ওয়েবসাইট বা ব্লগে, আপনি যদি এই top level domain গুলি ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের জনপ্রিয়তা বাড়বে এবং সেই সাথে ওয়েবসাইট ব্যাবহারকারী এবং গুগল দুজনের কাছেও প্রাধান্য পাবে।

TLD বা টপ লেভেল ডোমেইন গুলিকে ”SEO Friendly Domain” বলা হয়। কারণ, এই ক্যাটাগরি’র ডোমেইন এক্সটেনশন থাকা ওয়েবসাইটকে ”Google Search Engine” অনেক প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

তাই, আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ বানানোর কথা ভেবে থাকেন, তাহলে এই ধরণের “Top Level Domain” ব্যবহার করাটাই বুদ্বিমানের কাজ হবে।

কিছু TLD বা “Top Level Domain Extension” এর উদাহরণ নিচে দেয়া হলোঃ

 .com   (commercial)

 .org    (Organization)

 .net    (Network)

 .gov   (Government)

 .edu   (Education)

 .biz    (Business)

 .info   (Information)

এই ধরণের domain extension আপনি যে কোনো ডোমেইন কেনার ওয়েবসাইট থেকে কিনে নিতে পারবেন।

২. CcTLD – Country Code Top Level Domain

আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ যদি কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশকে উদ্দেশ্য করে বানানো হয়, তাহলে এই ধরণের CcTLD domain extensions ব্যবহার করতে পারেন। এই ধরণের ডোমেইন এক্সটেনশন কোনো দেশের Two letter ISO code এর ওপরে নামকরণ করা হয়।

Country code top level ডোমেইনের কিছু উদাহরণঃ

.us (United States)

.in  (India)

.bd (Bangladesh)

.cn  (China)

.ro  (Romania)

এই রকম আরো অনেক এমন ডোমেইন এক্সটেনশন রয়েছে, যেগুলি কেবল একটি নির্দিষ্ট দেশকে উদ্দেশ্য করে নামকরণ করা হয়েছে।

সাব-ডোমেইন কি?

সাব ডোমেইন হচ্ছে এই সকল মূল ডোমেইন এর শাখা ডোমেইন অর্থাৎ সিম্পল কথায় বলতে গেলে সাব ডোমেইন হলো কোন ডোমেইনের আন্ডারে আরেকটি ডোমেইন। সাধারনত মূল ডোমেইন এর নাম ঠিক রেখে এর আগে বা পরে নতুন শব্দ যোগ করে সাব ডোমেইন তৈরি করা হয়। ডোমেইন নাম এর আগে বা পরে কোন অংশ থাকলে তাকে সাবডোমেইন বলে। যেমন: texort.com এটা হচ্ছে মেইন বা প্রাইমারী ডোমেইন এবং domain.texort.com এটাকে সাবডোমেইন বলে। প্রয়োজনভেদে বিভিন্ন কাজে সাবডোমেইন ব্যবহার করা হয়। এতে করে নতুন ডোমেইন কিনতে হয়না আবার মেইন ডোমেইনের জনপ্রিয়তাও বাড়তে থাকে।

ডোমেইন নেম সিলেক্ট করার সময় যেসব বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

আপনি যদি প্রথম বারের জন্য একটি ডোমেইন কেনার কথা ভাবছেন, তাহলে কিছু সাধারণ (basic) জিনিসের খেয়াল রেখে ডোমেইনটি কিনতে হবে। তা না হলে, ভবিষ্যতে আপনার কিছু বিশেষ অসুবিধা হতে পারে। ডোমেইন নেম সিলেক্ট করার সময় নিচের বিষয় গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখবেনঃ

১। সহজ নাম নির্বাচন করতে হবে যাতে সবাই সহজে মনে রাখতে পারে।

২। নাম সংক্ষিপ্ত রাখতে হবে যাতে দেখতে এবং শুনতে সুন্দর লাগে আর মনে রাখতে ও সহজ হবে।

৩। চেষ্টা করবেন যাতে আপনার ডোমেইন নামে কোনো ধরণের special character যেমন (hyphen) বা (number) না থাকে।

৪। ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তুর সাথে মিল রেখে নাম ঠিক করতে হবে যেমন, ইকমার্স ওয়েব সাইটের জন্য (shop or store) রিলেটেড নাম নেয়া ভালো।

৫। বড় কোন কোম্পানির নামের সাথে মিল রেখে নাম দেওয়া থেকে বিরত থাকুন এতে আপনার ডোমেইন বা ওয়েবসাইট কপিরাইট ইস্যুতে পড়বে না।

৬। আপনার পছন্দের ডোমেইনটি এভেইলএবল (available) আছে কিনা তা ডোমেইন কেনার ওয়েব সাইটে সার্চ দিয়ে দেখে নিন

৭। কখনো অন্য ডোমেইন এর সাথে মিল রেখে কোনো ডোমেইন নেম সিলেক্ট করবেন না। আপনার ডোমেইন নেম সব সময় ব্যাতিক্রম (unique) হতে হবে। এতে, নিজের ব্র্যান্ড (brand) তৈরি করাটা অনেক সহজ হয়ে যায়।

ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনের সময় যে বিষয় গুলো জেনে নিবেন

১। যে কোম্পানি থেকে ডোমেইন কিনবেন তাদের সাথে ডোমেইনের প্রাইস নিয়ে বিস্তারিত কথা বলে নিন।

২। পরের বছরের রিনিউ চার্জের পরিমান জেনে নিবেন। অনেক প্রোভাইডার অফার দিয়ে অনেক কম মূল্যে বিক্রয় করে তবে রিনিউয়ের সময় সাধারন মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি চার্জ করে।

৩। ফুল কন্ট্রোল প্যানেল বুঝে নিবেন EPP কোড সহ যাতে পরে কোন সমস্যা হলে আপনি ডোমেইন ট্রান্সফার করে অন্য প্রোভাইডারে যেতে পারেন এবং রিনিউ করতে পারেন।

ডোমেইন ম্যানেজমেন্টের বিষয়গুলো

প্রথম অবস্থায় ডোমেইনের কন্ট্রোল প্যানেল দেখলে আপানার মনে হতে পারে ডোমেইন ম্যানেজ করা অনেক কঠিন কিছু আসলে কিন্তু তা নয়। এটি অনেক সহজেই ম্যানেজ করতে পারবেন। কন্ট্রোল প্যানেলে অনেক কিছুই দেওয়া থাকে তার মধ্যে আপনাকে যে মূল ৫ টি বিষয় অবশ্যই জানতে হবে তা আমি নিচে দিয়ে দিচ্ছি। 

১। Contact Details: এই সেকশনে আপনি দেখতে পাবেন যে ডোমেইন টি কার নামে কেনা বা এটি রেজিস্ট্রেশনে কোন ইমেইল ব্যবহার করা হয়েছে। যদি আপনাকে ফুল কন্ট্রোল প্যানেল দেওয়া হয় আপনি চাইলে সব তথ্য পরিবর্তন করতে পারবেন।

২। Privacy Protection: আপনি যখন ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন করেন তখন আপনার কিছু ব্যাক্তিগত তথ্য শেয়ার করতে হয় যেমন: নাম, ঠিকানা,ইমেইল, মোবাইল নাম্বার ইত্যাদি। রেজিষ্ট্রি থেকে এই তথ্যগুলো সাধারণত পাবলিকলি শো করা থাকে। যার কারণে হ্যাকার বা থার্ড পার্টি কেউ সহজেই Whois Checker থেকে ডোমেইন মালিকের যাবতীয় তথ্য নিয়ে অসাধু কোন কাজে ব্যবহার করতে পারে। 

এই তথ্যগুলো লুকিয়ে রাখাকে ডোমেইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন, Whois Protection বা আইডি প্রোটেকশন বলে। সম্ভব হলে এই প্রাইভেসি প্রোটেকশন অন করে রাখবেন। ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন করার সময় অতিরিক্ত ফি দিয়ে এই প্রাইভেসি প্রোটেকশন নিতে হয়। এই সার্ভিসটি ব্যাবহার করার জন্য আপনাকে বছরে ২-৪ ডলার পে করা লাগতে পারে, তবে কিছু কিছু প্রোভাইডার প্রাইভেসি পোটেকশন প্রথম বছরের জন্য ফ্রি দিয়ে থাকেন। আবার কিছু কিছু ডোমেইন প্রোভাইডার এই সার্ভিসটি আজীবনের জন্য ফ্রি দিয়ে থাকে, যেমন টেক্সর্ট। 

৩। Name Server: ডোমেইন কেনার পর আপনার ডোমেনের কন্ট্রোল প্যানেলে আপনার হোস্টিং এর নেম সার্ভার বসিয়ে দিবেন যেটি আপনাকে আপনার হোস্টিং প্রোভাইডার দিয়েছে। নেম সার্ভার দেখতে অনেকটা নিচের মত হবে।

ns1.w3techniques.com

ns2.w3techniaues.com

৪। Domain Secret: এটি হচ্ছে সবচেয়ে সেনসিটিভ একটা বিষয়। আপনার ডোমেইন প্যানেলে ডোমেন সিক্রেট অপশনে আপনি একটা কোড পাবেন যাকে EPP Code বলে। এই কোডের মাধ্যমে আপনি ডোমেইন যেকোন সময় অন্য প্রোভাইডারে ট্রান্সফার করে নিতে পারবেন। যেমন Name Cheap থেকে ট্রান্সফার করে Texort এ নিয়ে আসতে পারবেন।

৫। Theft Protection: ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন এর পর পরই থেফ্ট প্রোটেকশন অন করে রাখা উচিত এতে করে আপনার ডোমেইনের EPP Code অন্য কারো কাছে থাকলেও সে আপনার ডোমেইন ট্রান্সফার করে নিতে পারবে না।

ডোমেইন কেনার সময় কি কি বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন?

১। History চেকঃ ডোমেইন এর হিস্ট্রি চেক করে নিন। আপনার পূর্বে কেউ ডোমেইনটি কিনেছিলো কি না? কিনলে সেটি কতদিন ব্যবহার হয়েছে? কতবার কেনা হয়েছে ইত্যাদি বিষয় অবশ্যই চেক করে নিবেন।

২। আর্কাইভ চেকঃ পূর্বে যদি কেউ ডোমেইনটি কিনে থাকে, তাহলে কি কাজে ব্যবহার করেছে সেটি চেক করে নিন। যদি খারাপ কোন কাজে এর আগে ডোমেইনটি ব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে ওই ডোমেইন কেনা থেকে বিরত থাকুন।

৩। ফেসবুক ব্লক চেকঃ যে ডোমেইনটি রেজিষ্ট্রেশন করতে চাচ্ছেন সেটি ফেসবুকে ব্লক আছে কিনা, যাচাই করে নিন। ফেসবুকে ব্লক থাকলে ওই ডোমেইনের কোন কনটেন্ট ফেসবুকে শেয়ার দেওয়া যাবেনা তাই এটি চেক করা জরুরী।

৪। গুগোল ব্ল্যাকলিস্টেড চেকঃ যে ডোমেইনটি কিনতে চাচ্ছেন সেটি গুগোল থেকে ব্ল্যাকলিস্টেড কিনা সেটি চেক করে নিবেন। সাধারণত কোন ডোমেইন প্রোভাইডার সাইট থেকে ডোমেইন কিনলে সেটি চেক করতে হয়না, তবে আপনি যদি কোন থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট থেকে অথবা কোন ব্যাক্তির কাছ থেকে ডোমেইন কিনে থাকেন তাহলে অবশ্যই সেটি চেক করে নিবেন।

ডোমেইন ব্ল্যাকলিস্টেড কিনা সেটি চেক করতে এখানে ক্লিক করুন

ডোমেইন ব্ল্যাকলিস্টেড হওয়ার কারণ কেউ যদি সেই ডোমেইন দিয়ে এমন কোন কাজ করে থাকে যেটি গুগোল এর গাইডলাইন ভঙ্গ করেছে তখন সেই ডোমেইন গুগোল থেকে ব্লক করে দেয়। যদি আপনার ডোমেইন গুগোল থেকে ব্লক থাকে তাহলে সেই ডোমেইন দিয়ে এডসেন্স এপ্রুভাল পাবেন না বা আপনার বিজ্ঞাপন শো করবে না।

৫। কপিরাইট বা ট্রেডমার্ক চেকঃ বড় বড় কোম্পানী তাদের বিজনেসের নাম পেটেন্ট করে রাখে। এই পেটেন্ট করা নামের সাথে মিল রেখে বা কপি করে কেউ ডোমেইন কিনলে সেটা কপিরাইট বা ট্রেডর্মাক এর মধ্যে পড়বে।

কপিরাইট বা ট্রেডমার্ক ডোমেইন কখনোই কেনা উচিত না, কেননা এই ট্রেডমার্কের জন্য কোম্পানী আপনার নামে মামলা পর্যন্ত করতে পারে। এছাড়া ট্রেডমার্ক যুক্ত ডোমেইন যেখান থেকে রেজিষ্ট্রার করা হয়েছে কোম্পানী সেখানে গিয়ে ডিরেক্ট রিপোর্ট করলে ডোমেইন ডিলেট করে দেওয়া হয়।

তাই, ডোমেইনটি কোন কোম্পানীর কপিরাইট বা ট্রেডমার্ক করা আছে কিনা যাচাই করে নিন। যদি ট্রেডমার্ক করা থাকে তাহলে ওই ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন করা বা কেনা থেকে বিরত থাকুন।

৬। DMCA চেকঃ যে ডোমেইনটি রেজিষ্ট্রেশন করতে চাচ্ছেন তা অবশ্যই DMCA চেক করে নিবেন। যদি ডোমেইনে কোন DMCA প্যানাল্টি থাকে তাহলে ওই ডোমেইন কেনা থেকে বিরত থাকবেন। 

কিভাবে একটি ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন করতে হয়? 

ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন বলতে সহজ কথায় ডোমেইন কেনা বোঝায়। ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন প্রাইজ এক্সটেনশন ভেদে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। আপনি আপনার পছন্দমতো ডোমেইন সর্বনিম্ন ১ বছর এবং সবোর্চ্চ ১০ বছরের জন্য রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবেন। তবে অনেক জায়গায় লাইফ টাইম ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশনের কথা বলা হয়ে থাকে, এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা তাই এসব ব্যপার থেকে আপনাকে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে।

একটি ডোমেইন কেনার উপায় অনেক সহজ এবং সোজা। আপনি মোবাইল ব্যবহার করেই কিনুন বা কম্পিউটার, দুটো ক্ষেত্রেই আপনার একি রকমের কিছু স্টেপস ফলো করেই ডোমেইনটি কিনতে হবে।

স্টেপ ১ – প্রথমে আপনাকে “Domain Service Provider” বা ডোমেইন কেনার ওয়েবসাইটে যেতে হবে।

মনে রাখবেন, সব ধরণের ওয়েবসাইট থেকে ডোমেইন কেনার নিয়ম প্রায় একই।

এই ক্ষেত্রে, আপনি Texort থেকে ডোমেইন কিনতে পারেন। Texort বাংলাদেশী ডোমেইন প্রোভাইডারদের মধ্যে বেশ নামকরা একটি ওয়েবসাইট।

স্টেপ ২ – Texort এর ওয়েবসাইটে যাওয়ার পর, প্রথমে আপনার নিজের একটি ডোমেইন একাউন্ট তৈরী করতে হবে। ডোমেইন একাউন্ট তৈরী করতে প্রথমে ডানদিকে থাকা “Sign up” অপশনে ক্লিক করতে হবে

স্টেপ ৩ – এরপর “Create an account in 10 seconds” এই অপশনে ক্লিক করতে হবে।

ক্রিয়েট একাউন্ট ইন টেন সেকেন্ড

স্টেপ ৪ – পরবর্তী পেইজে একে একে আপনার Email ID, Username, Password, Address এবং Mobile number দিয়ে “Create account” অপশনে ক্লিক করতে হবে। তবে এর আগে অবশ্যই মার্ক করা জায়গাতে টিক দিয়ে নিবেন।

ক্রিয়েট একাউন্ট

স্টেপ ৫ – ডোমেইন একাউন্ট তৈরী করার পর, আপনাকে হোম পেজে যেতে হবে। হোম পেজে যাওয়ার পর আপনি একটি সার্চ বক্স দেখতে পাবেন যেখানে “Find your ideal domain name” লেখা থাকবে।

ফাইন্ড আইডিয়াল ডোমেইন নেম

এখন, “Find your ideal domain name” বক্সে নিজের পছন্দ মতো নাম লিখে ডানদিকে থাকা “Search” বাটনে ক্লিক করুন।

স্টেপ ৬ – Search button এ ক্লিক করার পর, আপনার সার্চ করা ডোমেইন নেম যদি এভেইলএবল (available) থাকে, তাহলে পরের পেজে সেটা আপনি দেখতে পাবেন।

চেক-আউট

আপনি ওপরে ছবিতে দেখতেই পারছেন, আপনার সার্চ করা ডোমেইন নামটি available আছে।

এখন, যদি আপনার সার্চ করা available ডোমেইনটি আপনি কিনতে চান, তাহলে “Select” অপশনে ক্লিক করতে হবে।

স্টেপ ৭ – সিলেক্ট অপশনে ক্লিক করার পর পাশে চেক আউট (Checkout) অপশনে ক্লিক করবেন 

স্টেপ ৮ – চেক আউট অপশনে ক্লিক করার পর নিচের ছবির মতো একটি অপশন আসবে

প্রোসিড টু চেক-আউট

এখানে আপনি “No thanks proceed to checkout” অপশনে ক্লিক করবেন

স্টেপ ৯ – এরপর আপনাকে পরবর্তী পেইজে নিয়ে যাবে। এখানে আপনি আপনার কার্টে থাকা ডোমেইন গুলো দেখতে পাবেন, এখানে “Add Privacy Protection” অপশনটিতে টিক দিয়ে দিবেন, এটা অন করা থাকলে কেউ আপনার ডোমেইন এর ইনফরমেশনগুলো দেখতে পাবে না। এটা আপনি ডোমেইন নেম সিলেক্ট করার সময় ও করতে পারেন। 

এরপর “Online Payment Option” থেকে “aamarpay” অপশন সিলেক্ট করে  “Pay Online” অপশনটিতে ক্লিক করবেন।

অনলাইন পেমেন্ট অপশন

স্টেপ ১০ – পরবর্তী ধাপে আপনি কার্ড অপশনটিতে কয়েকটি পেমেন্ট অপশন দেখতে পারবেন যেখানে আপনি ব্যাংক এর বিভিন্ন কার্ড এর মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন। যেমনঃ DBBL Nexus, DBBL Master, DBBL Visa, Visa এবং  Mastercard ।

কার্ড পেমেন্ট অপশন

এবং তার পাশে মোবাইল ব্যাংকিং অপশনটি দেখতে পারবেন যেখানে আপনি বাংলাদেশী লোকাল পেমেন্ট গেটওয়ে যেমনঃ B-kash, Rocket, Nagad, Ok Wallet, Upay এবং Tap এর মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন। 

আপনার পছন্দ এবং সুবিধামতো যে কোন একটি অপশন সিলেক্ট করার পর “Pay BDT” অপশনে ক্লিক করবেন।

মোবাইল ব্যাংকিং পেমেন্ট অপশন

স্টেপ ১১ – এরপর আপনাকে পরবর্তী পেইজে নিয়ে যাবে। এখানে উদাহরণস্বরুপ বিকাশ এর পেমেন্ট প্রসেসটি দেখানো হয়েছে । এখানে ”Your Bkash Account Number” বক্সে আপনার বিকাশ নাম্বারটি দিয়ে কনফার্ম অপশনে ক্লিক করার পর আপনার ডোমেইনটি আপনার ডোমেইন একাউন্ট এ যোগ হয়ে যাবে। তার মানে আপনার ডোমেইন কিনা সফল হয়েছে।

বিকাশ পেমেন্ট

এভাবে আপনারা নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে Texort থেকে অনেক সহজেই একটি ডোমেইন কিনে নিতে পারবেন।

উপরে দেয়া প্রসেসটি বুঝতে সমস্যা হলে নিচের দেয়া ভিডিও-টি দেখে নিতে পারেন।

ডোমেইন রিনিউ

ডোমেইন রিনিউ বলতে সহজ কথায় ডোমেইন এর মেয়াদ বাড়ানো কে বুঝায়। ইউজারে তার ইচ্ছামতো সর্বনিম্ন ১ বছর থেকে সবোর্চ্চ ১০ বছরের জন্য ডোমেইন রিনিউ করতে পারে এবং এই রিনিউ করার কাজটি আপনি ডোমেইন কিনার পর থেকে ডোমেইন এক্সপায়ার হওয়ার আগ পর্যন্ত যে কোন সময় করে নিতে পারবেন। 

ডোমেইন রিনিউ করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ যেগুলো আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবেঃ

ডোমেইন এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৩০ থেকে সর্ব্বোচ ৪৫ দিন সময় থাকে ডোমেইনটি রিনিউ করার জন্য এর মধ্যে ডোমেইন ইউজারের ইমেইলে ধাপে ধাপে বেশ কয়েকবার কয়েকটি মেইল গিয়ে থাকে ডোমেইনটি রিনিউ করে নেয়ার জন্য। তবে, আপনি যদি ডোমেইন প্রোভাইডার এর দেয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিনিউ না করে নেন তাহলে নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পর আপনার ডোমেইনটি ডিলেট হয়ে যাবে অটোমেটিক্যালি।

ডোমেইন সম্পূর্ণরূপে ডিলেট হয়ে যাবার পর যে কেউ এই ডোমেইন রেগুলার প্রাইসে নতুন করে রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবে। এই সময়ে ডোমেইন রিলিজ বা এক্সপায়ার্ড হয়ে যায়।

আরও একটি বিষয় বলে রাখা ভালো যে, ডোমেইন কেনা বা রিনিউ করার সবোর্চ্চ এবং সর্বনিম্ন সময় এবং ডোমেইন মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ডোমেইন ডিলেট হয়ে যাওয়ার সময় ডোমেইন প্রোভাইডারদের নিয়ম-নীতির ‍উপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।

ডোমেইন ব্যাকঅর্ডার

ডোমেইন ব্যাকঅর্ডার মূলত একটি পদ্বতি যার মাধ্যমে রেজিষ্ট্রারকৃত ডোমেইন মনিটরিং এবং ট্রাকিং করা হয়। যাতে করে পরবর্তীতে ওই ডোমেইন এভেইলেভল হবার সাথে সাথেই এটি সবার আগে রেজিষ্ট্রেশন করা যায়। ইউজার যখন ডোমেইন রিনিউ না করে পরবর্তীতে তা এক্সপায়ার্ড হয়ে যায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এক্সপায়ার্ড হয়ে যাবার সাথে সাথে অনেকেই ডোমেইনটি আবার নতুন করে রেজিষ্ট্রেশন করতে চায়।আর এখানেই ডোমেইন ব্যাকঅর্ডারের কাজ, ডোমেইন ব্যাকঅর্ডারের মাধ্যমে ওই ডোমেইনটি এক্সপায়ারর্ড হবার পর তা আপনাকে রেজিষ্ট্রেশন করতে সাহায্য করবে। ব্যাকঅর্ডার ডোমেইনের মূল রেজিষ্ট্রি সহ থার্ড পার্টি প্রোভাইডারদের মাধ্যমেও করা যায়। ডোমেইনের মূল রেজিষ্ট্রি মানে যেখানে অলরেডি ডোমেইন রেজিষ্ট্রার আছে সেখান থেকে ব্যাকঅর্ডার করলে তা পাবার সম্ভবণা বেশি থাকে।

ডোমেইন ট্র্যান্সফার

ডোমেইন ট্রান্সফার বলতে এক প্রোভাইডার থেকে অন্য প্রোভাইডারে মুভ করা বোঝায়। অর্থাৎ ধরুণ আপনি ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন করেছিলেন Namecheap এ কিন্তু এখন Namecheap বাদ দিয়ে ব্যবহার করতে চান Texort তাই আপনার ডোমেইনটি নেমচীপ থেকে টেক্সর্ট এ নিয়ে আসলেন, এটাকে মূলত ডোমেইন ট্রান্সফার বলে।

তবে নতুন কোন ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন করে ৬০ দিনের আগে ট্রান্সফার করতে পারবেন না। কেননা নতুন রেজিষ্ট্রেশন ডোমেইনে ৬০ দিন IRTP ট্রান্সফার লক এনাবল থাকে, তাই ৬০ দিন পর থেকে ট্রান্সফারের অপশন থাকে। কিন্তু যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ট্রান্সফার করার খুব প্রয়োজন পড়ে তাহলে রেজিষ্ট্রার কোম্পানীর সাপোর্টে কথা বলে IRTP লক ডিজাবল করে নিয়ে ট্রান্সফার করা যেতে পারে।

শেষ কথা

পরিশেষে, ডোমেইন কি, ডোমেইন কত প্রকারের, ডোমেইন কেনার সময় কি কি বিষয়গুলো খেয়াাল রাখবেন এবং কিভাবে ডোমেইন কিনতে হয়, এই বিষয়গুলো আপনাদের ভালো করে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছি।

যদি আমাদের এই আর্টিকেল বা ব্লগটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশই শেয়ার করবেন। এতে, যারা এই ব্যাপারে জানতে চান তাদের উপকার হতে পারে।

এবং, টপিক বা আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো প্রশ্ন থাকলে, নিচে কমেন্টের মাধ্যমে জিজ্ঞাসা   করুন। অবশই আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়া হবে।

Don't wait!
Get the expert business advice You need in 2022

It's all include in our newsletter!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More To Explore
পারসোনাল ব্র্যান্ডিং এর জন্যে লিংকড ইন
Marketing

পারসোনাল ব্র্যান্ডিং এর জন্যে লিংকড ইন

পারসোনাল ব্র্যান্ডিং কথাটির সাথে আমরা কম বেশি সকলেই পরিচিত। ব্র্যান্ডিং হল যেকোনো ধরনের ব্যবসা বা প্রোডাক্টের নিজ নিজ সক্রিয়তাকে মানুষের সামনে তুলে ধরা। তাহলে পারসোনাল

৭টি মার্কেটিং স্কিল যা প্রত্যেকটি উদ্যোক্তার থাকা উচিত
Marketing

৭টি মার্কেটিং স্কিল যা প্রত্যেকটি উদ্যোক্তার থাকা উচিত

উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি আপনার ব্র্যান্ড প্রচার প্রচারণার ক্ষেত্রে কিছু মার্কেটিং স্কিলের সাহায্য নিতে পারেন। এসব মার্কেটিং স্কিল আপনাকে আপনার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে অনেকাংশে  সাহায্য করবে।