fbpx

প্রিন্ট অন ডিমান্ড – স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন

প্রিন্ট অন ডিমান্ড

Share This Post

প্রিন্ট অন ডিমান্ড এর কনসেপ্ট সমসাময়িক সময়ের জনপ্রিয় বিজনেস আইডিয়া গুলোর একটি। বিশেষ করে হুডি, টি-শার্ট, মগ, বুক কভার কিংবা ব্যাকপ্যাকের পিছনে ডিজাইনের ক্ষেত্রে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আপনাদের প্রশ্ন হতে পারে এইসব পণ্য তো আমরা ডিজাইনড অবস্থায় যেকোন দোকানে কিংবা সংশ্লিষ্ট পণ্যের অনলাইন বিক্রেতার কাছ থেকে কিনতে পারি।

তাহলে ট্র্যাডিশনাল টি-শার্ট কিংবা মগ বিক্রেতার সাথে প্রিন্ট অন ডিমান্ড ব্যবসার পার্থক্য কি? 

মগ প্রিন্ট (প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড)

ট্র্যাডিশনাল ডিজাইন বিজনেসে আগের থেকে একটি নির্দিষ্ট ডিজাইনের অনেকগুলো প্রোডাক্ট (মগ, টি-শার্ট, ব্যাকপ্যাক) ইত্যাদি তৈরি করা থাকে। অন্যদিকে প্রিন্ট অন ডিমান্ডে প্রোডাক্ট তৈরি হয় অর্ডার পাওয়ার পর “পার অর্ডার” পদ্ধতিতে। অর্থাৎ, কাস্টমার একটি ডিজাইন দেখার পর সেটি পছন্দ করে। এরপর বিক্রেতার কাছে ওই ডিজাইনের প্রিন্ট দিয়ে কোন পণ্য অর্ডার করে। তখন বিক্রেতা ওই অর্ডারের ভিত্তিতে পণ্যের ওপর প্রিন্ট দিয়ে থাকে।

যে ধরণের পণ্যের ওপর প্রিন্ট দেয়া হয় তাকে “হোয়াইট লেভেল প্রোডাক্ট” বলা হয়। এর অর্থ হচ্ছে ওইসব পণ্যের উপর কোন ছাপা থাকে না। এরা খালি বা সাদা থাকে। তখন এর উপর ক্রেতার পছন্দের ডিজাইনটি দিয়ে “প্রিন্ট” করে একে ক্রেতার কাছে সরবরাহ করা হয়।

প্রিন্ট অন ডিমান্ড সম্পর্কে আরো ডিটেইলসে জানতে এবং আপনি নিজেই একজন নতুন হিসেবে এই ব্যবসা শুরু করতে আমাদের প্রিন্ট অন ডিমান্ড মিনি কোর্সটি করে ফেলুন।

Table of Contents
    প্রিন্ট অন ডিমান্ড কি?

    এখন প্রিন্ট অন ডিমান্ড ব্যাপারটিকে যদি আমি ডিফাইন করার চেষ্টা করি তাহলে বিষয়টি দাঁড়াবে এমন – কোন ডিজাইন বা প্রিন্টকে ক্রেতা পছন্দ করার পর তা কাস্টমারের প্রেফার্ড প্রোডাক্ট (মগ, টি-শার্ট, হুডি, বল) ইত্যাদির ওপর যখন প্রিন্ট করা হয় তখন তাকে “প্রিন্ট অন ডিমান্ড” বলে।

    প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেসে তিনটি পার্টি পরস্পরের সাথে কাজ করে।

    ১) প্রিন্ট সেলারঃ- 

    ইনি হচ্ছেন ডিজাইনার। যিনি আসলে ডিজাইনগুলি তৈরি করে অনলাইনে তা বিক্রির জন্য প্রদর্শন করে থাকেন।

    ২) প্রোডাক্ট প্রোডিউসারঃ-

    যেই প্রোডাক্ট (মগ, টি-শার্ট, হুডি) এর উপর প্রিন্টটি ব্যবহার করা হবে তার প্রোডিউসার। 

    ৩) কাস্টমারঃ- 

    যিনি ডিজাইনটি কিনে থাকেন। কাস্টমার প্রিন্ট সেলার বা ডিজাইনারের কাছ থেকে ডিজাইনটি কেনার পর তা অর্ডার হয়ে যায় প্রোডাক্ট প্রোডিউসারের কাছে। যার কাছ থেকে প্রোডাক্টে প্রিন্ট হওয়ার পর কাঙ্খিত পণ্যটি কাস্টমারের হাতে পৌঁছায়।

    ‘প্রিন্ট অন ডিমান্ড’ বিজনেস এই সময়ে কতটা লাভজনক?
    টি-শার্ট প্রিন্ট (প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড)

    গত ৫/৭ বছর ধরে বাজারে “প্রিন্ট অন ডিমান্ড” ব্যবসার ব্যাপক চাহিদা বেড়ে গেছে। 

    • গত চার বছরে “প্রিন্ট অন ডিমান্ড” ইন্ডাস্ট্রি প্রায় ১২% গ্রোথ দেখেছে।
    • প্রিন্টফুল এর এক সাম্প্রতিক জরিপের মতে কেবল ২০২০ সালেই “প্রিন্ট অন ডিমান্ড” স্টোরের মালিকেরা প্রায় ৪৫% বেশি সেলস দেখেছে। 

      প্রিন্ট অন ডিমান্ড নিয়ে এডভ্যান্স কোর্সের জন্য আজই আপনি এনরোল করতে পারেন ওয়ান ডিজাইন এওয়ে চ্যালেঞ্জে
    ‘প্রিন্ট অন ডিমান্ড’ ব্যবসার সুবিধা কি?
    প্রিন্ট অন ডিমান্ড এর সুবিধা ও অসুবিধা

    প্রিন্ট অন ডিমান্ড ব্যবসার এই ক্রমাগত উর্ধ্বগতির পিছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর সুবিধাগুলি বুঝতে পারলেই আমরা এই কারণ ধরতে পারবো। যেমনঃ-

    • ক) অলমোস্ট শূন্য পুঁজির ব্যবসাঃ- অন্যান্য ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে যেই পরিমান ইনভেস্টমেন্ট প্রয়োজন হয় প্রিন্ট অন ডিমান্ডে তার দরকার পড়ে না। খুবই অল্প পুঁজিতে আপনি এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন। অল্প বলতে এতটাই অল্প যে আপনি এটিকে জিরো ক্যাপিটালও বলতে পারেন।
    • খ) বিজনেস স্কেলিং এর সুবিধাঃ- একটি ব্যবসা সফল হবে না ব্যর্থ হবে তাঁর অনেকখানি নির্ভর করে সেই বিজনেসের প্রোডাক্ট স্কেলিং-এর উপর। প্রোডাক্ট স্কেলিং হচ্ছে কি মাত্রায় ইনভেস্টমেন্ট করে আমি কতটুকু প্রফিট ঘরে তুলতে পারবো সেই সম্পর্কে একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা তৈরি করে নেয়া। “প্রিন্ট অন ডিমান্ড” ব্যবসায় ইনভেস্টমেন্ট খুব অল্প লাগে বিধায় এইক্ষেত্রে স্কেলিং করাটা অপেক্ষাকৃত সহজ।
    • গ) সময় সাশ্রয়ী এবং জটিলতা কমঃ- “প্রিন্ট অন ডিমান্ড” ব্যবসা অনেক বেশি সময় সাশ্রয়ী। আপনি যদি প্যাশনেট একজন আর্টিস্ট হয়ে থাকেন আপনার কাজ হবে নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে ডিজাইন তৈরি করা। পরবর্তীতে ,আপনার এই ডিজাইন অনলাইন থেকে ক্রেতা কিনে নেয়ার পর তা চলে যাবে ফ্যাক্টরিতে। সেখান থেকে প্রোডাক্টটি প্রিন্টেড হয়ে পৌঁছে যাবে ক্রেতার ঘরে। একদম স্ট্রেইটকাট পদ্ধতি যাকে বলে। খুব বেশি সিস্টেমেটিক জটিলতা এর ভেতরে নেই।
    • ঘ) ঝুঁকি কমঃ- “প্রিন্ট অন ডিমান্ড” প্রায় রিস্ক ফ্রি একটি বিজনেস মডেল। এই পদ্ধতিতে খুব বেশ ঝুঁকি নেই। যেহেতু, আপনার ইনিশয়াল ইনভেস্টমেন্ট প্রায় নেই বললেই চলে সেহেতু আপনি এটি একরকম কোন ঝুঁকি ছাড়াই এস্টাবলিশ করতে পারবেন।
    ‘প্রিন্ট অন ডিমান্ড’ বিজনেস কিভাবে হয়ে থাকে?
    টি-শার্ট প্রিন্ট (প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড)

    “প্রিন্ট অন ডিমান্ড’ নিয়ে একটি সাদামাটা আইডিয়া এতক্ষণে আমরা পেয়ে গেছি। এবার, বিষয়টি নিয়ে একটু বিস্তৃত আলোচনা করব।

    কিভাবে প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস শুরু করা যায়?

    আমরা এর আগে প্রিন্ট অন ডিমান্ডের তিনটি পার্টি নিয়ে আলোচনা করেছি। এবারেও আলোচনা আসলে এই পার্টিগুলোর ভেতরে থাকলেও কাজ বুঝে নেয়ার স্বার্থে টোটাল প্রসেসকে আমরা দুইটি গ্রুপে মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছি। যথাঃ-

    ১। সেলার/ডিজাইনার।

    ২। ফুলফিলমেন্ট পার্টনার।

    ১। সেলার/ডিজাইনারঃ-

    প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেসে আপনি যদি সেলার হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই প্রথমে বিজনেসটি নিয়ে স্টাডি করে নিতে হবে। “প্রিন্ট অন ডিমান্ড” এর ক্ষেত্রে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে কোন একটি প্ল্যাটফর্মে বিজনেসটি লঞ্চ করা।

    আপনি ডোমেইন কিনে কিংবা ই-মেইল এড্রেস এই দুইয়ের মাধ্যমেই আপনার বিজনেসটি লঞ্চ করতে পারেন তবে যদি আপনি প্রোফেশনাল ট্র্যাফিক বেশি চান তাহলে অবশ্যই ডোমেইনের মাধ্যমে আপনার ব্যবসাটি লঞ্চ করা বেশি ভাল হবে।

    এখানে আরেকটি জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হচ্ছে ইনস্টাগ্রামের ব্যবহার। আপনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামকে ব্যবহার করে আপনার ডিজাইন সহজে আপনার কাস্টমারদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। আবার অ্যামাজনের মাধ্যমেও আপনার ডিজাইনটি আপনি বিক্রি করতে পারেন। তবে মাধ্যম যেটিই হোক আপনার একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম অবশ্যই প্রয়োজন হবে। হোক সেটা ডোমেইনের মাধ্যমে কিংবা ই-মেইলের মাধ্যমে।

    গিয়ারলঞ্চ একটি ভাল ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে আপনি আপনার ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন। গিয়ারলঞ্চের মাধ্যমে বিজনেস শুরু করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ডোমেইনের সাহায্য নিতে হবে। আপনার বিজনেসটি শুরু করার পরপরই একটি স্টোর সেট আপ করে ফেলুন। সেখানে স্টোর লাইভে গিয়ে আপনার ডিজাইনগুলো আপলোড করে ফেলুন। 

    ই-মেইল দিয়েও আপনি আপনার ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। সেক্ষেত্রে রেডবাবল,জেজেল,গোটেন, সোসাইটি সিক্স প্রভৃতি প্ল্যাটফর্ম আপনি ব্যবহার করতে পারেন। 

    আপনি যদি ডিজাইনিং এর সাথে সম্পৃক্ত নাও থাকেন তারপরেও টি-সামুরাই এর মতন প্ল্যাটফর্ম থেকে বিভিন্ন ডিজাইন ক্রয় করে আপনি আপনার ব্যবসাটি সাজাতে পারেন। 

    ২। ফুলফিলমেন্ট পার্টনারঃ-

    হুডি প্রিন্ট (প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড)

    ফুলফিলমেন্ট পার্টনার হচ্ছে সেই বিজনেস পার্টনার যা আপনার ব্যবসাকে পরিপূর্ণ রূপ দিবে। আপনি ডিজাইনটি করে কিংবা কিনে নিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছাড়লেন। কাস্টমারের অর্ডারও আপনি রিসিভ করলেন। কিন্তু, এই প্রিন্টটিকে পণ্যের উপর ব্যবহার করে তাকে কাস্টমারের কাছে কে পৌঁছে দিবে? এই কাজটিই করবে আপনার ফুলফিলমেন্ট পার্টনার। 

    তাই বিজনেস আইডিয়া ডেভেলপ করার সাথে সাথে আপনার ফুলফিলমেন্ট পার্টনার চুজ করার ধাপটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারন্যাশনাল ক্ষেত্রে অনেক ফুলফিলমেন্ট পার্টনার থাকলেও আপনাকে পার্টনার চুজ করার ক্ষেত্রে কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে। আপনি মনে রাখবেন ফুলফিলমেন্ট পার্টনার যদি ভাল না হয়,আপনি যত ভাল ডিজাইনই ডেভেলপ করুন না কেন ফাইনাল প্রোডাক্টটি ভাল হবে না। আর ফাইনাল প্রোডাক্ট যদি ভাল না হয়, তাহলে আপনার কাস্টমার ইম্প্রেশনও ঠিক থাকার সুযোগ খুবই কম। 

    ফুলফিলমেন্ট পার্টনার চুজ করার ক্ষেত্রে তাদের –

    • ওয়্যারহাউসিং সিস্টেম।
    • প্রোডাক্ট কোয়ালিটি।
    • প্রোডাক্ট ভ্যারিয়েশন।
    • ডেলিভারি সিস্টেম এন্ড টাইম।
    • কাস্টমার সার্ভিস।

    এইসকল বিষয় নিয়ে অবশ্যই খুব ভালভাবে রিসার্চ করে নিবেন। 

    শেষ কথা

    বর্তমান সময়ে এস্পারিং আর্টিস্ট, অন্ট্রাপ্রেনার কিংবা ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রির সাথে যারাই জড়িত আছেন তাদের কাছে ‘প্রিন্ট অন ডিমান্ড” একটি ভাল প্রফিট জেনারেটিং সেক্টর হতে পারে। যাদের এই সেক্টরে ব্যবসা করার ইচ্ছা আছে আশা করি আমাদের এই আর্টিকেলটি তাদেরকে সাহায্য করবে।

    পুরো লেখাটি কেমন লাগলো, তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। আপনাদের প্রতিটি মতামতই আমাদের কাছে সত্যিই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    যদি মনে হয় লেখাটি নতুন উদ্যোক্তাদের সাহায্য করবে পরবর্তী দিক নির্দেশনা পেতে, তবে শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন।

    এই ধরনের আরও অনেক ইনফো কনটেন্ট এর জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।

    Don't wait!
    Get the expert business advice You need in 2022

    It's all include in our newsletter!

    Leave a Comment

    Your email address will not be published.

    More To Explore

    ব্রাউজার কিভাবে আয় করে ওয়েব ব্রাউজার এর বিভিন্ন কার্যক্রম যা আমাদের অজানা
    Entrepreneur

    ব্রাউজার কিভাবে আয় করে? ওয়েব ব্রাউজার এর বিভিন্ন কার্যক্রম যা আমাদের অজানা

    ব্রাউজার কিভাবে আয় করে? ইন্টারনেট এর দুনিয়ায় পা রাখতে আমরা সবার আগে আমরা ব্যবহার করেছি ব্রাউজার। ব্রাউজার ব্যবহার করেই আমরা নানান অ্যাপ্স বা সফটওয়্যার এর

    বিজনেসে পজিটিভ রেজাল্ট
    Entrepreneur

    বিজনেসে পজিটিভ রেজাল্ট নিয়ে আসুন ৭ টি বিজনেস স্ট্র্যাটেজিতে

    আপনি কি একটি বিজনেস রান করছেন? কিভাবে বিজনেসে পজিটিভ রেজাল্ট নিয়ে আসা যায় তা নিয়ে ভাবছেন? সময়ের পরিক্রমায় বর্তমান সময়ে বিজনেস হয়ে উঠেছে সকল বয়সের