নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে হলে যেই ৯ টি বিষয় আপনাকে চর্চা করতেই হবে

৯ টি বিষয়

Share This Post

Share on facebook
Share on linkedin
Share on twitter
Share on email

ব্যবসায় করার প্রবল ইচ্ছা কিন্তু ঝুঁকির ভয়ে উদ্যোগ নিতে পারছেন না। বর্তমান সময়ে অনেক নতুন উদ্যোক্তা হচ্ছে। যারা উদ্যোগ  ও নিচ্ছেন এবং সফল ও হচ্ছেন। দরকার কিছু সঠিক গাইডলাইন। এবং কিছু কিছু বিষয় যা একজন উদ্যোক্তা হতে হলে করতে হবে।

তো চলুন এমন ৯ টি বিষয় আমরা জেনে নেই যা আপনার নিজেকে একজন উদ্যোক্তাহিসেবে দেখতে হলে করতে হবে।

১। নিজের  লক্ষ্যকে নিয়ে  স্বচ্ছ ধারণা রাখুন

সফলতা কি? অন্যের কাছে যেটা সফলতা সেটা আপনার কাছে সফলতা নাও হতে পারে। কারন আমাদের সবার লক্ষ্য ভিন্ন। আপনি জীবনে যাই হতে চান না কেন সেটা সম্পর্কে আপনার নিশ্চিত হতে হবে। এর মানে হচ্ছে আপনার নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে।

আচ্ছা লক্ষ্য কি! আপনি নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান। বা আপনি নির্দিষ্ট ভাবে কি চান। কোন অবস্থানে গেলে নিজেকে মনে হবে যে হ্যা এটাই আমি চেয়েছিলাম। ঠিক ওই জিনিসটাকেই স্থির করাই হলো লক্ষ্য। একজন উদ্যোক্তার জন্য লক্ষ্য কতোটা জরুরি? লক্ষ্য ঠিক না করলেও তো হয়! শুরু করি যেভাবে চলে চলুক দেখি কোথায় পৌঁছাই। না এভাবে যারা করে তারা সফল হতে পারেনা।

আপনি একজন উদ্যোক্তা হবেন আপনার লক্ষ্য হবে স্থির। যেমন ধরুন আমি আমার ডিজাইন করা প্রিন্টেড কফি মগ নিয়ে বিজনেস করব। এবং আমার লক্ষ্য হচ্ছে আমার মগ গুলি যে কেউ যেখানেই দেখুক দেখেই বুঝবে যে এটা আমার অমুক ব্র্যান্ডের মগ! তাহলে অবশ্যই আমার এমন কোন ডিজাইন আমার মগে করতে হবে যা আগে কোন ব্রান্ড করেনাই। তাইনা। এইযে আমার এই লক্ষ্য টা যে আমি নির্ধারণ করলাম এটা আমার বিজনেস এর সফলতা আনতে সহায়তা করবে।

২। অভিজ্ঞদের পরামর্শ শুনুন

অভিজ্ঞতা একদিনে হয়না। অনেক সাকসেস ফেইল মিলিয়ে অভিজ্ঞতা হয়। অনেক ভালো খারাপ দিক মোকাবেলা করে একজন অভিজ্ঞ হয়। তাই আপনি সবচেয়ে ভালো ধারণা পাবেন অভিজ্ঞদের পরামর্শ শুনে।

একজন অভিজ্ঞ পরামর্শদাতার কাছ থেকে জানতে পারবেন সে কি কি সমস্যায় পড়েছেন কিভাবে তা মোকাবেলা করেছেন। কি কি ধাপে সে এগিয়েছেন। কোন কোন ভাবে আগাতে পারলে সফল হওয়ার অধিক সম্ভাবনা থাকে। কিভাবে তারা পার্টনার সিলেক্ট করেছে। এ সকল বিষয় আপনি জানতে পারবেন। আপনি চাইলে আপনি চাইলে। আপনি চাইলে লিঙ্কড ইন এর মতো প্লাটফর্মে তাদের সাথে কানেক্ট থাকতে পারেন। ইউটিউবে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে ভিডিও আছে তাও দেখতে পারেন।

৩। উদ্যোক্তা সম্পর্কিত ইভেন্টগুলোতে যোগ দিন 

একজন উদ্যোক্তাহিসেবে নিজেকে দেখার জন্য  উদ্যোক্তাদের নিয়ে যে সেমিনার হয় বা উদ্যোক্তা ট্রেইনিং ইভেন্ট গুলি হয় এগুলির বিকল্প নেই!  জানা এবং শেখার কোন শেষ নেই। আপনি যখন এসবে অংশগ্রহণ করবেন আপনি অনেক অজানা তথ্য জানতে পারবেন।আপনি অনেক সফল উদ্যোক্তার গল্প শুন্তে পারবেন তারা কি কি ভাবে নিজেকে সফলতার দিকে এগিয়েছে। অনেক টিপস এন্ড ট্রিক্স জানতে পারবেন। আরও জানতে পারবেন তারা কি কি বাধা পেড়িয়েছে। 

এবং সাথে অনেক বের্থতাএর গল্পও জানতে পারবেন যে কেনো তারা সফল হলো না। কি কি ভুল ছিলো। যা যা আপনি এড়াতে পারেন। তাই নিজেকে উদ্যোক্তাহিসেবে দেখতে হলে সেমিনারে অংশগ্রহণ করুন অন্যদের সম্পর্কে জানুন, তাদের কথা শুনুন, আরও বিস্তারিত আইডিয়া নিন এবং আপনার উদ্যোগ  সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হন।

৪। অভাব বুঝতে হবে
৯ টি বিষয়

একজন ভালো উদ্যোক্তা অভাব বুঝে। বিভিন্ন সফল উদ্যোক্তারা যারা আছেন তারাও অভাব বুঝেছে বলেই আজ আপনি অভাব বোধ করছেন না! এই অভাব টা কোন অভাব? যদি একটি উদাহরণ দেই তাহলে, আমি যে জায়গায় থাকি সেখানে কোন বিকালের খাবার বা সকালের নাস্তার দোকান নেই। ওই এলাকা থেকে বেশ অনেক সুরে যাওয়া লাগে বিকালের নাস্তা কিনতে। এলাকার মুরুব্বিরা বসে তারা চা এর সাথে খাওয়ার মতো কিছু পায়না। এটি একটি অভাব। আমরা অভাব বোধ করছি এটার। আপনি যদি সেখানে এমন একটি উদ্যোগ  নেন যেটাতে এই অভাব দূর হবে তাহলে কেমন হবে। আপনি যখন অভাব বুঝবেন তখন আপনি নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে পারবেন।

৫। নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করুন

একটি উদ্যোগ যখন নিবেন তখন আপনি একা কিন্তু সব কাজ করতে পারবেন না। বা একা সব রিসোর্স মেনেজ করতে পারবেন না। তো আপনার কি দরকার। নেটওয়ার্ক ! এটা কি ফোন এর নেটওয়ার্ক যা কিছুক্ষন পর পর চলে যায়? এটা হচ্ছে সেই নেটওয়ার্ক যেখানে আপনি বিভিন্ন রকমের ব্যাক্তিবর্গের সাথে কানেক্টেড থাকবেন। তাদের সম্পর্কে জানবেন। তাদের রিসোর্স সম্পর্কে জানবেন। নিজের টা শেয়ার করবেন। যাতে আপনি যখন উদ্যোগ  নিবেন আপনার জানা থাকে আপনি কথা থেকে কি পাবেন।

৬। নতুন চ্যালেঞ্জ অনুসন্ধান করুন

কোন সমস্যায় পড়েছেন তা সমাধান এর চেষ্টা করুন। কোন না কোন উপায় আছেই। আগে যা কেউ কখনো করেনি তা আপনি করুন। চ্যালেঞ্জ নিন। অন্যে্র চিন্তা ভাবনা শুন্তে হবে। একজন উদ্যোক্তার একটি অন্যতম দক্ষতা এটা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা। কেউ আপনাকে চ্যালেঞ্জ দিবেনা আপনার নিজের খুজে নিতে হবে। 

৭। ঝুঁকি নেওয়ার মানুসিকতা রাখুন

আপনি যদি ঝুঁকি না নিতে পারেন আপনি কখনো একজন উদ্যোক্তা হতে পারবেন না।উদ্যোগ  মানেই আপনাকে ঝুঁকি নিতে হবে। কোন কিছু আপনি নিশ্চিত বলতে পারবেন না। নিজেকে গুটিয়ে রাখা যাবেনা। নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখা আর ধৈর্য খুবই প্রয়োজন। আপনি নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে চাইলে আপনার থাকতে হবে মানসিক শক্তি, ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা, অধ্যবসায়, কৌশলী ও ব্যক্তিত্ব।

৮।সঠিক বিজনেস পার্টনার সিলেক্ট করুন
৯ টি বিষয়

কখনো মনে হতে পারে আমি একাই পারবো পার্টনার লাগবে কেনো। কিন্তু এটা সঠিক কোন ধারণা নয়। কারণ একা আগানো সম্ভব না বিজনেস এর ক্ষেত্রে। আপনার সাহায্য লাগবেই। 

একজন উদ্যোক্তা হতে হলে অনেক কিছু সামাল দিতে হয়। অনেক দিকে গবেষণা করতে হয়। বিজনেস পার্টনার থাকলে সকল কাজে আলোচনার মাধ্যমে অনেক দিক বের হয়ে আসে। অনেক নতুন পরিকল্পনা গঠন করা যায়, বিভিন্ন ধরণের ট্রিক্স পাওয়া যায়। অথবা কোথায় ভুল হচ্ছে বা কোথায় আগানো দরকার। একেকজন একেক দিক সামাল দিতে পারে। এগুলি সঠিক পার্টনার সিলেক্ট করলেই কেবল সম্ভব। তাই বিজনেস পার্টনার না শুধু সঠিক বিজনেস পার্টনার জরুরি।

৯। ব্যর্থতা থেকে শিখতে হবে

আপনি বিজনেস শুরু করবেন আর সাথে সাথে সফলতা এসে পরবে আপনার দরজায় এভাবে চিন্তা করলে ব্যবসায় হবেনা। আপনি ব্যর্থ হবেন আপনি সেটা থেকে শিক্ষা নিবেন। আপনার এই ব্যর্থতা আসছে কারণ আপনি চেষ্টা করেছেন। অনেকে তো চেষ্টা করেনা।  তাই ব্যর্থ হলে বসে থাকা যাবেনা। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ওইটাকে উন্নতি করবেন কিভাবে তা দেখতে হবে।

Subscribe To Our Newsletter

Get updates and learn from the best

More To Explore

Jatri
Startup Story

বাংলাদেশী প্রথম ডিজিটাল বাস ট্র্যাকিং এবং টিকিটিং প্লাটফর্ম ‘ যাত্রী ‘

প্রায় ৪৭ শতাংশ যাত্রী প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করে। অনির্ধারিত বাস, দীর্ঘ সারি ধরে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা এবং লাইন ধরে বাসের টিকেট কাটা এবং