প্যাশনকে প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড সাকসেস এ পরিণত করুন

প্যাশনকে প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড সাকসেস এ পরিণত করুন
Share This Post

জীবনে সাকসেসফুল হতে হলে অবশ্যই আপনাকে আপনার যেকোনো ধরনের কাজের প্রতি দৃঢ় প্যাশন গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সকলের কিছু ভালো লাগার জিনিস রয়েছে যেমন ছবি আঁকা। সেই ছবি আঁকার ভালো লাগাকে কাজে লাগিয়েই ইলাস্ট্রেটর অথবা অন্যান্য ফটোশপের কাজ করতে বর্তমানে অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠছে। আপনার এই প্যাশনকে একটি সাকসেসফুল বিজনেসে পরিণত করতে পারেন প্রিন্ট অন ডিমান্ডের মাধ্যমে। প্যাশনকে  প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড সাকসেসে পরিণত করতে আপনাদেরকে কি করতে হবে তা যদি অজানা থেকে থাকে তবে আপনাদের সেই দুশ্চিন্তাকে দূর করতেই আমাদের আজকের এই লেখা।

প্রিন্ট অন ডিমান্ডে অপর্চুনিটি :

একজন ডিজাইনার, ফ্রিল্যান্সার কিংবা মার্কেটার হিসেবে প্রিন্ট অন ডিমান্ডে আপনার অপর্চুনিটি-

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে :

টি-শার্ট বা পোশাক থেকে শুরু করে পোস্টার বা স্টেশনারি সবকিছুতেই নতুনত্ব নিয়ে আসতে পারে একজন ফ্রিল্যান্সার। একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেসকে বেছে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে  আপনার এই বিজনেসের প্রতি মোটামুটি ধারণা থাকুক বা না থাকুক, দক্ষ ফ্রিল্যান্সাররা সঠিক নির্দেশাবলীর সাথে খুব দ্রুত কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। 

একবার আপনার ডিজাইন পছন্দ হয়ে গেলে, আপনি সেগুলিকে বারবার পুনরুৎপাদন করতে পারবেন। আপনার কাছে যদি সুন্দর কিছু ডিজাইন থেকে থাকে তবে আপনি সেসব ডিজাইনকে পরিবর্তন করার জন্য একজন ফ্রিল্যান্স ফটো এডিটর হায়ার করতে পারেন। সে আপনার প্রদানকৃত ডিজাইনগুলোর মাঝে কিছুটা পরিবর্তন আনার মাধ্যমে তা আরো অনেক বেশি আকর্ষণীয় বা এগুলোতে নতুনত্ব নিয়ে আসতে অনেকাংশে সাহায্য করবে। 

প্রিন্ট অন ডিমান্ড বলতে কি বুঝায়

যেহেতু ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি খুব সহজেই বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন তৈরি করে কাস্টমারদের কাছে গ্রহণযোগ্য কিছু প্রোডাক্ট  পৌঁছাতে পারবেন। এছাড়াও কাস্টমারদের সম্পর্কে ধারণা থাকার কারণে আপনি সহজেই তাদের পছন্দ-অপছন্দকে মাথায় রেখে বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট বাজারে আনতে পারবেন। তাই একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও আপনি প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড সাকসেসে পরিণত করতে পারেন। 

গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে :

একজন গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ হচ্ছে তার চিন্তা চেতনা অথবা কল্পনার জগতকে একটি ডিজাইনের রূপ দেয়া। গ্রাফিক ডিজাইনিং হচ্ছে  প্রিন্ট অন ডিমান্ড ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু। যেকোন একটি বিজনেস শুরু করার প্রথম দিকে আপনি কখনোই অতিরিক্ত লোকজন হায়ার করতে পারেন না কারণ ইনভেস্টমেন্টের কথা চিন্তা করে। কিন্তু আপনি  প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেসটি সম্পূর্ণরূপে জিরো ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে শুরু করতে পারেন। আর একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে আপনাকে এটি অনেক বেশি সুবিধা প্রদান করবে। 

গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে

যেহেতু প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেসে ডিজাইনারের প্রয়োজন পড়ে থাকে তাই একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে আপনি খুব সহজেই এই বিজনেসটিকে বেছে নিতে পারেন। এর অন্যতম সুবিধা হচ্ছে আপনাকে কোন ধরনের ডিজাইনার হায়ার করতে হবে না অথবা ডিজাইনার হায়ার করার জন্য কোন ধরনের খোঁজাখুঁজির প্রয়োজন পড়বে না। তাই প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড সাকসেসে পরিণত করে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে আপনি একটি সাফল্যজনক বিজনেস গড়ে তুলতে পারেন খুব সহজেই।

ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে :

বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যতম একটি বিজনেস আইডিয়া হচ্ছে প্রিন্ট অন ডিমান্ড।

একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসাবে আপনাকে সব সময় অর্থ, বর্তমান বিষয় এবং উল্লেখযোগ্য মার্কেটিংয়ের ট্রেন্ডগুলির সাথে নিজেকে সংযুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ আপনার অবশ্যই সবসময় নতুন ধারণার সন্ধান করা উচিত এবং আপনি যা করছেন তার প্রতিনিয়ত নতুনত্ব আনার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস আপনাকে সেই সৃজনশীলতা এবং নতুনত্ব আনতে অনেকাংশে সাহায্য করে। 

ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে

প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেসের ক্ষেত্রে আপনার টার্গেট অডিয়েন্স এর কাছে তাদের পছন্দকৃত  প্রোডাক্ট বা বাজারে ট্রেন্ডি জিনিসপত্রগুলো তুলে ধরা এবং আপনার যে ফুলফিল্মেন্ট পার্টনার রয়েছে কাস্টমারদের কাছে প্রোডাক্ট পৌঁছানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান ইত্যাদি দ্বারাই ম্যানেজ করা হয়ে থাকে। যে কারণে এই বিজনেসটিকে ঝামেলাবিহীন ব্যবস্থাপনা বললেই চলে।

তাই ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে আপনি সহজেই ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন এই বিজনেসে এবং প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড বিজনেসকে সাকসেসে পরিণত করতে পারেন। 

কিভাবে সাকসেসফুল পিওডি বিজনেস শুরু করবেন :

ইতিমধ্যেই আপনি হয়ত প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস আপনার কি কি অপরচুনিটি আছে তা আইডেন্টিফাই করে ফেলেছেন। তাহলে এখন সময় নিজেই পিওডি বিজনেস শুরু করে প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড সাকসেস অর্জন করার- 

টপিক সিলেক্ট করা :

আপনাকে প্রথমে একটি নির্দিষ্ট টপিক সিলেক্ট করতে হবে যার উপর ভিত্তি করে আপনি ডিজাইনটি তৈরি করবেন। আপনি শুধু নিজের ডিজাইনগুলো তৈরি করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গুলোতে আপলোড করলেই তা সেল হবে না। কারন আপনাকে প্রথমেই একটি নির্দিষ্ট টপিক সিলেক্ট করতে হবে যার উপর ভিত্তি করে আপনি বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন তৈরি করতে পারেন। এ ধরনের টপিক সিলেক্ট করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে মাথায় রাখতে হবে কাস্টমারদের চাহিদা, কোন প্রোডাক্টের প্রতি কাস্টমারদের আগ্রহ বেশি ইত্যাদি সবকিছুর উপর।

টপিক সিলেক্ট করা

প্রোডাক্ট রিসার্চ করা :

একটি টপিক সিলেক্ট করে আপনি কোন প্লাটফর্মে তা আপলোড করবেন, কোন ধরনের প্রোডাক্ট গুলো সেল করতে চাচ্ছেন, বর্তমানে কোন ট্রেন্ড রয়েছে ইত্যাদি বিভিন্ন জিনিসের প্রতি আপনাকে নজর রাখতে হবে। আর তার জন্য আপনাকে প্রোডাক্ট রিসার্চ করতে হবে।

প্রোডাক্ট রিসার্চ করা

যেমন – শীতকালে অন্যান্য প্রোডাক্ট এর থেকে হুডি অনেক বেশি সেল হয় যা কাস্টমাররাও পছন্দ করে থাকে আবার গরমে টি-শার্ট অনেক বেশি ক্রয় হয়। প্রোডাক্ট রিসার্চ আপনাকে অন্যদের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে রাখতে সাহায্য করবে। এ ধরনের রিসার্চ আপনার ধারণাগুলোকে প্রসারিত করবে এবং সহজেই প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড সাকসেস অর্জন করতে সাহায্য করবে।

সেরা ডিজাইনারদের ফলো করুন:

আপনার তৈরিকৃত ডিজাইন অবশ্যই আপনার কাছে অনেক বেশি পছন্দনীয়। কিন্তু আপনাকে অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে তা কাস্টমারদের কাছে গ্রহণযোগ্য কিনা। তাই সেরা কিছু ডিজাইনারদেরকে ফলো করুন যাদের প্রোডাক্টগুলো কাস্টমাররা অনেক বেশি পছন্দ করে থাকে। যেহেতু আপনি এই বিষয়ে আগ্রহী তাই এটি আপনার বিজনেসকে সাকসেসফুল করতে অনেক বেশি সাহায্য করবে। 

সেরা ডিজাইনারদের ফলো করুন

মানসম্মত ডিজাইন তৈরি করা :

আপনাকে কাস্টমারদের পছন্দের কথা বিবেচনা করে অবশ্যই মানসম্মত একটি ডিজাইন তৈরি করতে হবে।  এক্ষেত্রে আপনি আপনার প্যাশনকে কাজে লাগাতে পারেন। অর্থাৎ আপনার করা ডিজাইন গুলোকে কাজে লাগাতে পারেন।

মানসম্মত ডিজাইন তৈরি করা

ইলাস্ট্রেটর অথবা ফটোশপ ব্যবহার করার মাধ্যমে কাস্টমারদের চাহিদা এবং ট্রেন্ড এর উপর ভিত্তি করে ডিজাইন তৈরি করার চেষ্টা করুন। ট্রেন্ড ফলো করে আপনি যদি একটি মানসম্মত ডিজাইন তৈরি করতে পারেন তাহলে স্বল্প পরিশ্রমে আপনি খুব সহজেই একটি মোটা অংকের টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন। যা আপনার বিজনেসকে অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। 

ট্রেন্ড ফলো করা:

প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেস এর ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই ট্রেন্ড ফলো করতে হবে। অর্থাৎ কাস্টমারদের পছন্দের ভিত্তিতে আপনাকে ডিজাইন তৈরি করতে হবে। কোন সময়ে কোন প্রোডাক্টটি কাস্টমারদের কাছে গ্রহণযোগ্য অথবা তারা বেশি আগ্রহ প্রকাশ করছে কোন প্রোডাক্ট এর ক্ষেত্রে ইত্যাদি নানা ধরনের বিষয় চিন্তা করে আপনাকে কাজ করতে হবে।

ট্রেন্ড ফলো করা

যেমন ধরুন বর্তমানে প্রিন্টেড ব্যাগগুলো অনেক বেশি সাড়া ফেলেছে। তাই আপনি চাইলেই অন্যান্য প্রোডাক্ট এর পাশাপাশি ব্যাগের ডিজাইন গুলোর প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন। এটি প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড সাকসেসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

মার্কেটিং স্ট্রাটেজি তৈরি করা:

প্যাশন হিসেবে আপনি যদি প্রিন্ট অন ডিমান্ড বিজনেসটি বেছে থাকেন তবে আপনাকে অবশ্যই মার্কেটিং স্ট্রাটেজি মেনে চলতে হবে।আপনার মত অনেকেই এই বিজনেসে তাদের সাকসেস অর্জন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছে বা করছে। আপনাকে অবশ্যই অন্যদের তুলনায় কিছুটা আলাদা অথবা ভিন্নতার সাথে কাজ করতে হবে। 

মার্কেটিং স্ট্রাটেজি তৈরি করা

যেমন প্রথম দিকে ইনভেসমেন্ট কম হতে পারে সে হিসেবে আপনার মার্কেটিং স্ট্রাটেজি  তৈরি করতে হবে অথবা অনেক সময় প্রোডাক্ট প্রোমোট করার ক্ষেত্রে ফ্রি অথবা ডিসকাউন্ট অফার আপনাকে অন্যদের থেকে ভিন্নতর করে তুলবে। এ ধরনের মার্কেটিং স্ট্রাটেজিগুলো প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড সাকসেস অর্জন করতে সহায়তা করে। 

Don't wait!
Get the expert business advice You need in 2022

It's all include in our newsletter!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More To Explore
কাস্টমার সার্ভিস স্কিলস ইম্প্রোভ করার ৭টি টিপস
Marketing

কাস্টমার সার্ভিস স্কিলস ইম্প্রোভ করার ৭টি টিপস

কাস্টমার সার্ভিস হল বিজনেস সুদুরপ্রসারি করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেপ। কাস্টমারই আপনার বিজনেস এর লক্ষ্য, আপনার প্রোফিট এর উৎস। তাই কাস্টমার সন্তুষ্ট করতে, একটা ওয়েল স্ট্র্যাকচারড

মার্কেটিং এর জন্য টুইটার অ্যালগরিদম কিভাবে ইউজ করবেন
Marketing

মার্কেটিং এর জন্য টুইটার অ্যালগরিদম কিভাবে ইউজ করবেন

আপনি কি টুইটারের মাধ্যমে এনগেজমেন্ট বাড়াতে এবং লিড তৈরি করতে চাইছেন? অথবা সম্ভবত আপনি আপনার ব্র্যান্ড রেপুটেশন বাড়াতে টুইটার অ্যালগরিদম নেভিগেট করাকে বেশ চ্যালেঞ্জিং মনে