৮ টি ইফেক্টিভ ব্র‍্যান্ডিং টিপস আপনার বিজনেস এর জন্য

৮ টি ইফেক্টিভ ব্র‍্যান্ডিং টিপস আপনার বিজনেস এর জন্য
Share This Post

একটা সাক্সেস্ফুল ব্র‍্যান্ড শুধু মাত্র একটা কালারফুল লোগো বা কিছু প্রোডাক্টস পরিচিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটা হচ্ছে বিজনেস রেপুটেশন এবং কাস্টমারের উপর একটা গুড বিজনেস ইম্প্রেশন ক্রিয়েশন। ব্র‍্যান্ডিং ছোট, বড় সকল বিজনেসের জন্যই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যখন কেউ স্ট্রং ব্র‍্যান্ড ক্রিয়েট করতে সক্ষম হয় তখন অটোমেটিক ভাবেই তার বিজনেস পরিচিতি বৃদ্ধি পায়, এবং বিজনেসের পরিচিতির মাধ্যমেই খুব দ্রুত প্রফিট লাভ করতে পারে। তবে, অনেকেই জানেন না কিভাবে ব্র‍্যান্ডকে ফেমাস করা যায়, সবার সামনে ইউনিক ব্র‍্যান্ড হিসেবে নিজের বিজনেসকে পরিচয় করিয়ে দেয়া যায়।

নিচে আটটি ইফেক্টিভ ব্র‍্যান্ডিং টিপস উল্লেখ করা হলো যেগুলো আপনাকে বিজনেসের জন্য একটা স্ট্রং ব্র‍্যান্ড ক্রিয়েট করতে হেল্প করবে।

ফেইস ভ্যালু

বিজনেস ব্র‍্যান্ডিং এর জন্য ফেইস ভ্যালু অনেক ইম্পর্ট্যান্ট। শুধুমাত্র একটা টাইটেল, অথবা চকচকে ইমেজ, পিকচার দিয়েই ব্র‍্যান্ডকে ফেমাস বানানো যায়না। আপনি কে? আপনার ব্র‍্যান্ড কি রিলেটেড, কেমন প্রোডাক্ট নিয়ে আপনি কাজ করছেন, এই ফিল্ডে আপনার এক্সপেরিয়েন্স কতোটা, এডুকেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড এসব কিছু অডিয়েন্সের সামনে ক্লিয়ার করুন। আপনার বিজনেসকে সাক্সেস করতে আপনার বিভিন্ন স্যাক্রিফাইস, চেষ্টা এসবের স্টোরি শেয়ার করুন। মানি মেকিং যেকোনো বিজনেসের-ই মূল লক্ষ্য। তবে, শুধুমাত্র প্রফিটের জন্য প্রোডাক্ট সেল করার বিষয়টি মাথায় রাখলে কখনোই কাস্টমার প্রোডাক্ট কিনতে ইন্টারেস্টেড হবেনা। আপনার প্রোডাক্টটি তাদের কি উপকারে আসবে, তারা রেগুলার লাইফে কতটুকু হেল্পফুল হবে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মার্কেটিং করা বেশ জরুরি স্ট্রং ব্র‍্যান্ড ক্রিয়েট করার জন্য।

এছাড়াও আপনি কি ধরনের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সেল করছেন এটার সাথে ব্র‍্যান্ডের নামের মিল থাকা অনেক জরুরি।

অডিয়েন্স রিসার্চ

ব্র‍্যান্ডিং টিপস গুলির মধ্যে অডিয়েন্স রিসার্চ হলো এমন একটা টিপস, যেটা ফলো করা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক। নতুন কোম্পানি শুরু করা বা প্রোডাক্ট ক্রিয়েট করার মধ্যে ঝুঁকি থাকবেই। তবে আপনি যদি প্রোপারলি মার্কেট সিচুয়েশ বুঝতে পারেন, এবং রিস্ক এভয়েড করার মতো যথেষ্ট স্কিলড পার্সন হোন তাহলে সফলতা আপনার জন্যই।

মার্কেট বুঝার জন্য এবং রিস্ক এভয়েড করার জন্য আপনাকে খুব ভালো করে অডিয়েন্স এবং মার্কেট রিসার্চ করতে হবে। আপনি যে প্রোডাক্ট সেল করতে যাচ্ছেন সেটার চাহিদা কতটুকু, আপনার ব্র‍্যান্ডের সিগনেচার প্রোডাক্ট অডিয়েন্সের জন্য কতটা ইউসফুল এসব কিছু রিসার্চ করে আইডেন্টিফাই করুন। যখন আপনি অডিয়েন্সের চাহিদা বুঝতে পারবেন তখন সেই অনুযায়ী প্রোডাক্ট সেল করতে পারবেন। 

ব্র‍্যান্ড স্লোগান (Motto)

ব্র‍্যান্ড ছোট হোক বা বড়, ব্র‍্যান্ড স্লোগান থাকা খুব জরুরি। ইউনিক ব্র‍্যান্ড স্লোগান সহজেই বিজনেস পরিচিতি বাড়াতে হেল্প করে। ফেমাস কিছু ব্র‍্যান্ড আছে যাদের স্লোগান ও কমবেশি আমাদের কাছে পরিচিত যেমনঃ মাইক্রোসফটের স্লোগান হলোঃ

 “Our mission is to empower every person and every organisation on the planet to achieve more.”

 ঠিক একই ভাবে প্রত্যেক ব্র‍্যান্ডের আলাদা আলাদা স্লোগান আছে।

আপনার ব্র‍্যান্ড কি রিলেটেড সার্ভিস প্রোভাইড করছে সেটার সাথে মিল রেখে স্লোগান এড করুন ব্র‍্যান্ড টাইটেলের পাশে। এছাড়াও ব্র‍্যান্ড ওয়েবসাইট, অডিয়েন্সকে সেন্ড করা ইমেইল, টেক্সটসহ সকল জায়গায় ব্র‍্যান্ড স্লোগান এড করতে ভুলবেন না।

ব্র‍্যান্ড মেইনটেইন

আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্র‍্যান্ডিং টিপস হলো ব্র‍্যান্ড মেইনটেইন। অনেকসময় দেখা যায় যে অনেক ব্র‍্যান্ড তাদের ব্র‍্যান্ড কে সঠিক ভাবে মেইনটেইন করতে পারছেনা। অর্থাৎ তারা অডিয়েন্সের কাছে তাদের ব্র‍্যান্ড মেসেজ সঠিক ভাবে প্রোভাইড করতে পারছেনা। এক্ষেত্রে, ব্র‍্যান্ড স্লোগান প্রত্যেক ইমেইল, টেক্সট এ এড করার পাশাপাশি ফিজিক্যাল মার্কেটিং, মুখোমুখি প্রেজেন্টেশনেও রিপিট করা জরুরি। 

এবং স্লোগান ও ভিশন অনুযায়ী প্রোপার সার্ভিস প্রোভাইড করা, অডিয়েন্সের প্রব্লেম সলভ করার মানসিকতা রাখতে হবে।

সার্ভে

ব্র‍্যান্ড পরিচিতি বাড়ানোর জন্য সার্ভের বিকল্প কিছু নেই। সার্ভের মাধ্যমে আপনি এক ঢিলে দুই পাখি মারতে পারছেন। প্রথমত সার্ভেতে স্পেসিফিক কিছু প্রশ্ন করার মাধ্যমে আপনার অডিয়েন্স রিসার্চ হয়ে যাচ্ছে, এবং আপনি মার্কেটে অডিয়েন্সের চাহিদা অনুযায়ী প্রোডাক্ট সেল করে প্রফিট করতে পারছেন, সেই সাথে আপনি অডিয়েন্সকে এটা বুঝাচ্ছেন যে আপনি আপনার কাস্টমারের ব্যাপারে কেয়ার করেন। তাদের প্রব্লেম বুঝার ট্রাই করেন। এতে করে আপনার ব্র‍্যান্ড এডভার্টাইসিং ও খুব ভালো করেই হয়ে যাচ্ছে।

ব্র‍্যান্ড ওয়েবসাইট 

যেকোনো ব্র‍্যান্ডের জন্য ব্র‍্যান্ড ওয়েবসাইট থাকা অনেক জরুরি। ব্র‍্যান্ডিং টিপস বাকি গুলোর মতো এটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একটা উন্নত ব্র‍্যান্ড ওয়েবসাইট অডিয়েন্সের মনে বেশ ভালো ইফেক্ট ফেলতে পারে। যে ব্র‍্যান্ড ওয়েবসাইট যতো বেশি ওয়েল ডেকোরেটেড ওই ব্র‍্যান্ডের প্রতি মানুষের ইন্টারেস্টও বেশি। একটা সাজানো গোছানো ওয়েবসাইট ভিজিট করতে কার না ভালো লাগে?

ট্রাই করুন ব্র‍্যান্ড ওয়েবসাইট প্রোপারলি ডেকোরেট করার। কি সার্ভিস প্রোভাইড করছেন, প্রোডাক্টসের ডিটেইলস ডেসক্রিপশন, রিসোর্স, ব্লগ সবকিছুই ওয়েবসাইটে রাখার ট্রাই করুন। অডিয়েন্স যেনো তার প্রয়োজনীয় সকল প্রোডাক্ট ইনফরমেশন ওয়েবসাইট ভিজিট করলেই পেয়ে যায়।

ইউসফুল কনটেন্ট 

অডিয়েন্সের সাথে অলওয়েজ কানেক্ট থাকা, তাদের কে প্রোপার গাইডলাইন দেয়া, প্রোডাক্ট রিলেটেড ইউসফুল কনটেন্ট প্রোভাইড করা ব্র‍্যান্ড মালিক হিসেবে এটা আপনার কর্তব্য। যখন অডিয়েন্স ব্র‍্যান্ড কর্তৃপক্ষের থেকেই প্রয়োজনীয় সকল ইনফরমেশন পাচ্ছে তখন তারা নরমালি আর অন্য কোথাও যাবেনা সার্ভিসের জন্য।

এজন্য সার্ভিস, প্রোডাক্ট রিলেটেড কোয়ালিটি কনটেন্ট প্রোভাইড করুন। কনটেন্ট গুলির মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট, সার্ভিস কে হাইলাইট করুন। কেন আপনার প্রোডাক্ট সে কিনবে, কি বেনিফিট সে পাচ্ছে এগুলি কন্টেন্ট এ হাইলাইট করুন। 

মেইনটেইন সোশ্যাল মিডিয়া 

বর্তমানে সকল ব্র‍্যান্ডের-ই সোশ্যাল মিডিয়া (Facebook, TikTok, YouTube, LinkedIn,Instagram) প্রোফাইল রয়েছে। পিছিয়ে থাকতে না চাইলে অবশ্যই ব্র‍্যান্ডের নেইম এবং স্লোগান দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার সব প্ল্যাটফর্মেই প্রোফাইল ক্রিয়েট করুন। ব্র‍্যান্ডিং টিপসগুলোর মধ্যে মোস্ট পপুলার হলো সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। কেননা, মিলিয়ন মিলিয়ন ইউসার রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে, এবং অনেক সময় দেখা যায় তারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই ব্র‍্যান্ড কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি কানেক্টেড। 

ব্র‍্যান্ড পরিচিতি বাড়াতে সোশ্যাল মিডিয়ার সকল প্ল্যাটফর্মেই ব্র‍্যান্ড নেইম, স্লোগান এড করুন। ভিডিও কনটেন্ট, অডিও কনটেন্ট এর মাধ্যমে প্রোডাক্টসের মার্কেটিং করুন। মাঝে মাঝে লাইভে যান, অডিয়েন্সের সাথে আড্ডা দিন, তাদের প্রশ্নের উত্তর দিন।

ফাইনালি, ব্র‍্যান্ডিং টিপসগুলো ফলো করার আগে মনে রাখবেন যে, ব্র‍্যান্ড কখনোই একদিনে ক্রিয়েট করা সম্ভব না। একজন সাক্সেস্ফুল ব্র‍্যান্ড মালিক হতে হলে অবশ্যই আপনাকে ধৈর্য ধরে পরিশ্রম করতে হবে। এটা করতে পারলে সফলতা আসবেই। সুতরাং, ব্র‍্যান্ডিং টিপসগুলো ফলো করুন, লেগে থাকুন যতক্ষণ পর্যন্ত সাক্সেস না হচ্ছেন।

Don't wait!
Get the expert business advice You need in 2022

It's all include in our newsletter!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More To Explore
আপকামিং ফাদার্স-ডে সেল টার্গেট অ্যাচিভ করার-৭টি টিপস
Marketing

আপকামিং ফাদার্স-ডে সেল টার্গেট অ্যাচিভ করার-৭টি টিপস

বাবা-নিজের শখ, চাহিদা এবং সুখ বিসর্জন দিয়ে আমাদের জীবনের প্রতিটা মুহুর্ত সুন্দর করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করা কারিগর। বাবারা হয়ত বাইরের থেকে কঠিন। কিন্তু এই

মার্কেটিং অটোমেশনের আল্টিমেট গাইডলাইন
Marketing

মার্কেটিং অটোমেশনের আল্টিমেট গাইডলাইন

কেমন হয় যদি মার্কেটিং এর জন্য আপনার তেমন কোন পরিশ্রমই না করতে হয়? অটোমেটিকালি, মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি গুলো আপনার বিজনেস কে কিউরেট করে! এতে, একদিকে আপনার